কোথায় হবে হাসিনার ফাঁসি ?

গাজীপুরে মহিলা বন্দিদের জন্য জায়গা আছে ঠিকই, কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ কই! আরও অবাক করার বিষয় হলো বাংলাদেশে এখন পযর্ন্ত কোনও মহিলা অপরাধীর ফাঁসি হয়নি।

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : ফাঁসি নিয়ে মানুষের মনে আগ্রহ আর ভয় কম নেই। কেন কোনও মানুষকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হল,সত্যিই কি সেই মানুষটা ফাঁসি কাঠে ঝোলার মতো কোনো কাজ করেছে, এই রকম একাধিক প্রশ্ন… এতদিনে গোটা বিশ্ব জেনে গিয়েছে মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল সেই রায় দিয়েছে..

ফাঁসির সাজা তো দেওয়া হল শেখ হাসিনাকে, কিন্তু ফাঁসি দেওয়া হবে কোথায় তাঁকে ? বাংলাদেশে তো ফাঁসির দেওয়ার কোনও জায়গা নেই..গাজীপুরে মহিলা বন্দিদের জন্য জায়গা আছে ঠিকই, কিন্তু ফাঁসির মঞ্চ কই! আরও অবাক করার বিষয় হলো বাংলাদেশে এখন পযর্ন্ত কোনও মহিলা অপরাধীর ফাঁসি হয়নি। স্থানীয় এক সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৭১ সাল থেকে ১০০ জনেরও বেশি মহিলাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু তার মধ্যে একজনেরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এখনও সে দেশে ৯৪ জন মহিলা বন্দি মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন ৩৪ জন মহিলা বন্দী।

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের আগে পর্যন্ত সর্বশেষ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন বরগুনার স্বামী রিফাত শরিফ হত্যা মামলায় ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। বর্তমানে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের মাধবীলতা সেলে বন্দি রয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মিন্নির ফাঁসির রায় হলেও পাঁচ বছরেও কার্যকর হয়নি তাঁর ফাঁসি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। তখন থেকে আজ পযর্ন্ত নানা অপরাধে অনেক আসামিকে ফাঁসির রায় দিয়েছে বাংলাদেশের নিম্ন ও উচ্চ আদালত। ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৪৪৮ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে বাংলাদেশে। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত যত জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে তারা সকলেই পুরুষ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্জন্ত কোন নারী আসামিকেই ফাঁসি দেওয়া হয়নি। একটি হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁসির আদেশ হয়েছে বাংলাদেশে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন জেলে কাটানোর পরে বেরিয়ে গেছেন, কেউ কেউ মারা গেছে, কারো কারো আপিলে শাস্তি কমেছে। নিয়মানুযায়ী ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা না করলে ফাঁসি থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে এমন নজিরও নেই।

২০০৭ সালে কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কারাগার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ থাকলেও সেখানে কোনো মঞ্চ নেই। অতীতে কোনো নারী আসামির ফাঁসির রেকর্ড না থাকায় ফাঁসির মঞ্চ বানানো হয়নি সেখানে,স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বক্তব্য, বাংলাদেশ প্রশাসন ধরেই নিয়েছিল যে ভবিষ্যতেও কোনও মহিলার ফাঁসি হবে না। তাই মহিলাদের কারাগারে কোনও ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়নি।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড মানেই ফাঁসি। ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। অন্য কোনও উপায়ের কথা উল্লেখ নেই। তবে আপাতত প্রশ্ন একটাই। ভারত কি হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করবে? ইতিমধ্য়েই দেশের বিদেশমন্ত্রক তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বলেই উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দেওয়ার রায় সম্পর্কে ভারত অবগত বলেও জানিয়েছে। সেই বিবৃতি অনুযায়ী, যেহেতু বাংলাদেশ, ভারতের খুব ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তাই তাঁদের জনগণের স্বার্থে— শান্তি, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতার প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু প্রত্যর্পণ করা হবে কি না, সে ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।