ফলতার ৩২টি বুথের অভিযোগ নিয়ে কমিশন তদন্ত করছে। এর মধ্যে ২০টি বুথ বিশেষ নজরে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার (২৯ এপ্রিল) ভোটগ্রহণের পর ডায়মন্ড হারবার ও ফলতা সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু বুথে ফের ভোটগ্রহণের (Repoll) জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী –
ফের ভোটের কারণ হল-
দ্বিতীয় দফার ভোটে মূলত ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকায় ইভিএম (EVM) নিয়ে মারাত্মক কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে:
ইভিএম বাটন টেম্পারিং: ফলতার অনেক বুথে বিজেপির প্রতীকের পাশে বাটন সেলোটেপ দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
অব্যবহৃত পদার্থ: ইভিএমে কালি বা সুগন্ধি (আতরের গন্ধ) ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ জমা পড়েছে।
অন্যান্য অভিযোগ: বুথ দখল, পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে রাখার মতো বিষয়েও অভিযোগ জানিয়েছেন বিরোধী প্রার্থীরা।
কোন কোন বুথে ভোট হতে পারে?
নির্বাচন কমিশন মোট ৭৭টি বুথে পুনরায় ভোটের দাবি খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে-
ফলতা: এখান থেকে সবচেয়ে বেশি ৩২টি বুথে অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ২০টি বুথের অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।
ডায়মন্ড হারবার: এই কেন্দ্র থেকে ২৯টি বুথে পুনরায় ভোটের দাবি জানানো হয়েছে।
মগরাহাট ও বজবজ: মগরাহাটে ১৩টি এবং বজবজে ৩টি বুথ নিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কবে হতে পারে ভোট?
নির্বাচন কমিশন (ECI) থেকে জানানো হয়েছে যে, স্পেশাল অবজার্ভারদের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশন সূত্রে খবর, সব ঠিক থাকলে মে মাসের প্রথম দিকেই (সম্ভবত ১লা বা ২রা মে) এই বুথগুলোতে ফের ভোটগ্রহণ হতে পারে। ৪ মে ভোট গণনার আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের।
বিধানসভা কেন্দ্র অভিযোগ জমা পড়া বুথের সংখ্যা বর্তমান অবস্থা –
ফলতার ৩২টি বুথের অভিযোগ নিয়ে কমিশন তদন্ত করছে। এর মধ্যে ২০টি বুথ বিশেষ নজরে।
ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি স্ক্রুটিনি ও ফিল্ড ভেরিফিকেশন চলছে।
মগরাহাটে (পূর্ব/পশ্চিম) ১৩টি পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট আসার অপেক্ষায়।
বজবজ ৩টি বুথ থেকে আসা অভিযোগ তদন্তাধীন।
কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে বুথ নম্বর সহ তালিকা প্রকাশ করলেই ভোটাররা নিশ্চিত হতে পারবেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিডিও অফিসের মাধ্যমেও এই তালিকা পাওয়া যাবে।