স্ট্রংরুমের দেওয়াল বেয়ে ছাদে উঠছে কে?

স্ট্রং রুমের ভবনের ছাদ থেকে একটি দড়ি ঝুলিয়ে নিচে নামছেন এক ব্যক্তি!

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পূর্ব বর্ধমানের ইউআইটি ক্যাম্পাসে তৈরি স্ট্রংরুম ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল একটি ভাইরাল ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। গভীর রাতে স্ট্রংরুম ভবনের ছাদে এক রহস্যময় ব্যক্তির উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ভবনের ছাদ থেকে একটি দড়ি ঝুলিয়ে নিচে নামছেন এক ব্যক্তি, পরে সেই দড়ি দিয়েই ফের উপরে উঠছেন। যদিও তাঁর পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাটি সামনে আসতেই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

জানা গিয়েছে, ওই স্ট্রংরুমে পূর্ব বর্ধমান জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এত সংবেদনশীল জায়গায় এমন অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে নাগরিক সমাজে। ইতিমধ্যেই ভাইরাল ভিডিয়ো নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস। তাঁর অভিযোগ, ইভিএম স্ট্রংরুমে রাখার পর থেকেই একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের দিকে মাঝেমধ্যেই সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ভবনের ছাদে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের ওঠানামা এবং হাতুড়ির শব্দ শোনার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

অন্যদিকে, শাসক শিবিরের তরফেও নজরদারির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষ জানান, সিসিটিভি নজরদারির মাঝেই বারবার ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর আরও অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজের সময় দেশের নির্ধারিত সময়ের থেকে ১ থেকে ২ মিনিট এগিয়ে থাকছে। ফলে কোনও ঘটনা ঘটলে তার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

স্বরাজ আরও দাবি করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুম এলাকায় ২৪ ঘণ্টা প্রযুক্তিগত কর্মী থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যবস্থা নেই বলেই অভিযোগ। সমস্যার কথা জানানো হলেও দ্রুত সমাধান মিলছে না বলেও তাঁর আক্ষেপ।

এই পরিস্থিতিতে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভোটগণনার আগে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।