বিশ্বকাপে যেন বইছে গোলের বন্যা!

মেসি চার ম্যাচে সাত গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। অন্যদিকে এমবাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোলের পাশাপাশি করেছেন দুটি অ্যাসিস্টও।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বকাপে যেন বইছে গোলের বন্যা! প্রতি ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক। একের পর এক দুর্দান্ত গোল আর তার সঙ্গে নতুন নতুন ইতিহাস। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন রীতিমতো গোল উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সেরা তারকারা যেন নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে একে অপরের সঙ্গে নেমেছেন প্রতিযোগিতায়। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ড। তিন সুপারস্টারের দুরন্ত গোল করার ধার বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে। একই সঙ্গে জমে উঠেছে গোল্ডেন বুটের লড়াইও।

রাউন্ড অব ১৬-তে ব্রাজিলকে বিদায় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা সাতে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। মাত্র চার ম্যাচে সাত গোল করে অবিশ্বাস্য ছন্দে রয়েছেন হালান্ড। তবে তিনি একা নন। সমান সাতটি গোল করেছেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেও। মেসি চার ম্যাচে সাত গোল করে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। অন্যদিকে এমবাপে পাঁচ ম্যাচে সাত গোলের পাশাপাশি করেছেন দুটি অ্যাসিস্টও। সেই কারণে গোল সমান হলেও অ্যাসিস্টে এগিয়ে থাকায় এই মুহূর্তে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে।

খেলোয়াড় দেশ গোল অ্যাসিস্ট

কিলিয়ান এমবাপে ফ্রান্স ৭ ২
লিওনেল মেসি আর্জেন্তিনা ৭ ০
আর্লিং হালান্ড নরওয়ে ৭ ০

এই বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আকর্ষণই হয়ে উঠেছে এই তিন মহাতারকার গোলের লড়াই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার এক আসরে তিনজন ফুটবলার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই সাত বা তার বেশি গোল করে ফেললেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করেছিলেন শুধু মেসি ও এমবাপে। এবার সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হয়েছে।

এদিকে গোলের বন্যায় ভেঙে যাচ্ছে আরও একের পর এক রেকর্ড। সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে পেছনে ফেলেছেন মেসি ও এমবাপে। হালান্ডও মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেই নরওয়ের সর্বকালের বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়ে গিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনও গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে কেন নিজের গোলসংখ্যা ছয়ে নিয়ে গিয়েছেন এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

এখন নজর আরেকটি ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে। এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক ১৩ গোলের রেকর্ডটি এখনও ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতের দখলে। তিনি ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হাঙ্গেরির সান্দর কশিস, যিনি ১৯৫৪ সালে করেছিলেন ১১ গোল। মেসি, এমবাপে ও হালান্ড যেভাবে গোল করে চলেছেন, তাতে তাঁরা যদি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারেন তবে ৬৮ বছরের পুরনো সেই রেকর্ডও এবার বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে।

গোল্ডেন বুট জিততে শুধু গোল করলেই হবে না। যদি একাধিক ফুটবলার সমান সংখ্যক গোল করেন তাহলে প্রথমে দেখা হবে কে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। সেখানেও সমতা থাকলে বিবেচনা করা হবে কে কম সময় মাঠে থেকে সেই গোলগুলো করেছেন। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে বেশি গোল করা ফুটবলারই এগিয়ে থাকবেন। এই মুহূর্তে সাত গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট থাকায় এমবাপেই রয়েছেন সবার ওপরে।

বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উত্তেজনা। প্রতিটি ম্যাচে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপের মঞ্চে গোলের এই মহারণ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে সেটাই এখন দেখার। মেসি, এমবাপে, হালান্ড নাকি হ্যারি কেন। শেষ হাসি কে হাসবেন, গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে। আর নতুন কোন রেকর্ড তৈরি হবে। তার উত্তর মিলবে আগামী ম্যাচগুলোতেই।

আপনার মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জিতবেন কে? মেসি, এমবাপে, হালান্ড, নাকি অন্য কেউ?