কাদের টার্গেটে কুণাল? প্রাণসংশয়ে বিধায়ক

ডিম নিক্ষেপণ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র! পরপর আক্রমণ। কাদের নিশানায় কুণাল?

আর প্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্কঃ পরপর আক্রমণ। ডিম নিক্ষেপণ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চমকানি। কাদের টার্গেটে কুণাল ঘোষ। মুখ বেঁধে বাইক বাহিনীতে ওরা কারা । প্রাণসংশয়ে ভুগছেন কুণাল ঘোষ। রিতিমতো আতঙ্কে কেঁদে ফেলেছেন তিনি। কেনই বা কুণাল ঘোষকে টার্গেট করা হচ্ছে। তবে কি সত্যি তাঁকে চুপ করাতেই এই পন্থা। এ তো সিনেমার চিত্রনাট্যে দেখা যায়। কুণাল ঘোষ যেভাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তাতে করে সিনেমার চিত্রনাট্যকে হার মানাবে রবিবাসরীয় বেলেঘাটাকাণ্ড। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়তো কুণাল ঘোষের পাশে দাঁড়িয়ে যেন একথায় বললেন। অভিষেকের সরাসরি অভিযোগ দলবদলে রাজি না হওয়ায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ভয় দেখানো ও হেনস্থার চেষ্টা করা হচ্ছে। সত্যি কি তাই, যাদের দিকে এত আঙুল সেই বিজেপির দাবি,এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল। মানে টা কি! কুণাল ঘোষ দলের কর্মীদের রোষানলে। এমনতেই ঠোঁটকাটা হিসাবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। দল থেকে বিজেপি নেতা মন্ত্রীদের তুলোধনা করতে মুখে কিছু আটকায় না। তা বলে দিনেদুপুরে এক বিধায়ককে এভাবে হেনস্থা করা হবে।


কী হয়েছিল কুণাল ঘোষের সঙ্গে? বিধায়ক কুণাল ঘোষ যে ভিডিও তুলেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে বাইকে করে যুবকেরা তার গাড়ির পিছু নিয়েছে। কুণাল ঘোষকে প্রাণে বাঁচতে নারকেলডাঙা থানায় আশ্রয় নিতে হয়। সেখানেই তিনি এক ভিডিও বার্তায় রীতিমতো আতঙ্কে কেঁদে ফেলেন। বেলেঘাটায় একটি অনুষ্ঠানে ঢোকার আগে গাড়ি আটকে হামলার অভিযোগ করেছেন কুণাল ঘোষ। কোনওমতে গাড়ি নিয়ে নারকেলডাঙা থানায় আসার পরও পিছু ছাড়েননি দুষ্কৃতীরা, থানার বাইরে বোমা-গুলি নিয়ে দুষ্কৃতীরা দাঁড়িয়ে আছে বলে ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়কের দেওয়া ভিডিওতে বাইক বাহিনীতে কিছু যুবকের পিছু নেওয়ার ছবি উঠে এসেছে। তারা যে কুণাল ঘোষের গাড়ি ধাওয়া করছিল তা কিছুটা হলেও ভিডিওতে স্পষ্ট।

কুণাল ঘোষের দাবি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই তাঁর গাড়ি ধাওয়া করে ওই বাইকবাহিনী। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বেলেঘাটায় কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে কুণাল ঘোষকে। কুণাল ঘোষের দাবি, এদিন পূর্ব নির্ধারিত কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ৩৪ নং ওয়ার্ডে তিনি যান । সেখানে কিছু উন্নয়নমূলক কাজের জায়গা দেখার কাজ ছিল । তাঁর বাড়ির সামনে থেকে ফলো করা হয় কুণাল ঘোষকে। তাঁর কথায় শুধু তিনি নন,তাঁর সহকর্মীরাও নিরাপদ নয়। বাড়ি থেকে কিছুদূর যেতেই বাহিনীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। সিনেমার মতো করেই তাঁকে অ্যাটাকের চক্রান্ত করা হয়েছিল বলে দাবি বেলেঘাটার বিধায়কের । বিধায়কের আরও দাবি বাইকে থাকা সকলের মুখ বাধা ও হাতে হাতুড়ি ছিল। যখন তিনি ফুল বাগানের মোড় দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলার চেষ্টা হয়। গাড়ি ঘিরে ইটপাথর মারা শুরু হয়। সেখান থেকে গাড়ির গতি বাড়িয়ে নারকেল ডাঙা মেনগেটে ঢুকতেই ফের বাইক বাহিনী ঘিরে ফেলে। সময় নষ্ট না করে প্রাণ বাঁচাতে কুণাল ঘোষ নারকেলডাঙা থানায় ঢুকে পড়েন। থানার ভিতরে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একটি ভিডিও করেন তিনি। রীতিমতো ভয়ে কাঁপতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে।

মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণ। শনিবার উত্তরপাড়াতেও তাঁর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। গাড়িতে ডিম নিক্ষেপণ থেকে ভাঙচুড় সবই হয়েছে কুণাল ঘোষের সঙ্গে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উত্তরপাড়া থেকে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। কুণাল ঘোষের উপর এই আক্রমণের ঘটনায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কুণাল ঘোষের উপর হামলার তীব্র নিন্দা করে দাবি করেছেন, ১৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এটি তাঁর উপর দ্বিতীয় হামলার ঘটনা।

অভিষেকের অভিযোগ, দলবদলে রাজি না হওয়ায় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ভয় দেখানো ও হেনস্থার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল আর এন রবিকে অবিলম্বে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপি আমায় মেরে ফেলবে। তবু আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না। তিনি আঙুল তুলেছেন তৃণমূলত্যাগীদের বিরুদ্ধেও। পুলিশের বিরুদ্ধেও সরব কুণাল ঘোষ।

শনিবার উত্তরপাড়ায় গাড়ি ঘুরিয়ে সটান ভবানী ভবনে গিয়ে উপস্থিত হন কুণাল। যদিও তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কুণাল জানান, তিনি সেখানে অভিযোগ করতে যাননি। তাঁর অভিযোগ তিনি উত্তরপাড়া থানায় মেল করে জানিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের সদর দফতর ভবানী ভবনে কেবল নিজের গাড়ির অবস্থা দেখাতে গিয়েছিলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রবিবারের ঘটনার পরে নারকেলডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন কুণাল। আক্রমণ যেই করুক ঘটনা তো ঘটেছে। তাই দোষীদের চিহ্ণত করা দরকার বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তাহলেই তো দুধ থেকে জল আলাদা হবে। না হলে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের পাহাড় জমবে। তাই
এখন দেখার কুণাল ঘোষের উপর আক্রমণের জল কোথায় গড়ায়।