ধর্মেন্দ্রর ৪৫০ কোটির সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কে?

কানাকড়িও নাকি পাবেন না হেমা মালিনী ? আইনি লড়াই শুরু বলিউডের হিম্যানের বাড়িতে!ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীরাই বা ক্ষুব্ধ কেন?

মৌসুমী সাহা, সাংবাদিক : দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে জীবনের কাছে হার মেনেছেন ধর্মেন্দ্র। আর কিছুদিনের মধ্যেই ৯০এর ঘরে পা রাখতেন তিনি কিন্তু তার আগেই জীবনের অধ্যায়ে দাঁড়ি পড়ে গিয়েছে। এখনও তার ফ্যানেরা যেন মানতে পারছেন না তিনি আর নেই। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে চূড়ান্ত টানাপোড়েনের পর বাড়ি ফিরেছিলেন, কিন্তু ২৪ নভেমবর ঘটল সেই ইন্দ্রপতন। নিজের বাড়িতেই মারা যান ধর্মেন্দ্র। বা়ড়ি থেকে সোজা তাঁর মরদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় শ্মশানে। উপস্থিত ছিলেন কেবল পরিজনেরা এবং শ্মশানে পৌঁছে যান বলিউডের তাবড় সেলেব্রিটিরা। এই বিষয়টিতে কিন্তু যারপরনাই ক্ষুব্ধ অভিনেতার অনুরাগীরা। তার প্রয়াণের খবর শুনে ধর্মেন্দ্রের বাড়ি ও শ্মশানে ছুটে যান তাঁর অনুরাগীরা। কিন্তু তাঁরা শেষ দেখা দেখতে পাননি। কেন এত তাড়াহুড়ো করে সব কিছু করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ধর্মেন্দ্রের এক অনুরাগী মন্তব্য করেন, “পরিবার যে পরিমাণ তাড়াহুড়ো করছে, দেখে মনে হচ্ছে, এই দিনের জন্যই যেন ওঁরা অপেক্ষা করেছিলেন।” একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় ধর্মেন্দ্রকে। এই দেখে একজন লেখেন, “এত বড় মাপের একজনকে এই ভাবে শেষযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হল? সত্যিই খুব দুঃখজনক। ওঁকে তো সকলের বিদায় জানানোর ছিল। অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধাটুকু জানাতে পারলেন না।” ধর্মেন্দ্রের আর এক অনুরাগী লেখেন, “যে মানুষটা এত মনোরঞ্জন করলেন সকলের জন্য, তাঁর শেষযাত্রা এ ভাবে গোপনে হয়ে গেল! ভাবা যাচ্ছে না। এবার মৃত্যুর মাত্র দু দিনের মধ্যেই সম্পত্তি নিয়ে তরজা শুরু!

একথা সবাই জানে ধর্মেন্দ্রর দুটো বিয়ে এবং প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয়বার হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন তিনি। ধর্মেন্দ্র ১৯৫৪ সালে প্রকাশ কৌরকে বিয়ে করেন। বলিউডে অভিষেকের আগেই প্রকাশকে তাঁর জীবনসঙ্গী করেছিলেন। তখন ধর্মেন্দ্রর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। ধর্মেন্দ্র ও প্রকাশের চার সন্তানও রয়েছে। ১৯৬০ সালে ধর্মেন্দ্রের অভিনয়জীবনের শুরু। তখন প্রথম সন্তানের অর্থাৎ সানি দেওলের বাবা হয়ে গিয়েছেন অভিনেতা। ১৯৭০ সাল থেকে হেমা মালিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়েছিল ধর্মেন্দ্রের। সীতা অউর গীতা  রাজা রানি জুগনুর মতো ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন তাঁরা। পর্দার রসায়ন বাস্তবেও প্রতিফলিত হতে শুরু হয়। আর এই ভাবেই তারা কাছাকাছি আসেন। যদিও বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি হেমার পরিবার। অন্যদিকে জিতেন্দ্র এবং সঞ্জীব কুমারও ভালোবাসতেন হেমাকে। যদিও সেটা ছিল একতরফা ভালোবাসা। একটা সময় জিতেন্দ্রর সঙ্গে বিয়েও পাকা হয়ে গিয়েছিল হেমার। কিন্তু সব ছেড়ে ছুড়ে ধর্মেন্দ্রতেই আটকে ছিলেন হেমা। ১৯৮০ সালে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। তখনও প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি মতে বিবাহিত ছিলেন অভিনেতা। শেষ জীবনেও প্রকাশ কৌর অর্থাৎ তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন তিনি, আবার মাঝে মাঝে হেমার কাছে এসেও থাকতেন। তার দুই স্ত্রী নাকি কখনও কারোর মুখোমুখি হননি কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে করে যে কোনদিন তারা মুখোমুখি হতেই পারেন। শোন যায়  ধর্মেন্দ্র সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ ৪৫ বছরের দাম্পত্যে হেমা মালিনী কোনওদিন পা দেননি বরের পৈতৃক ভিটেতে।শুধু হেমা নয়, হেমার পরিবারের কোনও সদস্যের সেই বাড়িতে ঢোকবার অনুমতি নেই। তবে আজীবন নিজের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। দুটো পরিবারের কাউকেই উপেক্ষা করেননি তিনি। কিন্তু একটা ভুল তিনি করে গিয়েছেন আর যার জন্য নাকি তার বিপুল সম্পত্তির সামান্যটুকুও পাবেন না হেমা মালিনী!

প্রথম ছবির চুক্তিতে সই করতে গিয়ে মাত্র ৫১ টাকা পেয়েছিলেন তিনি। প্রথম ছবিতে ৫১ টাকা পারিশ্রমিক পেলেও শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন তিনি। প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটির সম্পত্তি রেখে গিয়েছেন তিনি। প্রখর বুদ্ধির জেরেই শুন্য থেকে শুরু করা ধর্মেন্দ্র নিজের সম্পত্তিকে এই জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছেন। তার এই বিপুল সম্পত্তির মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য লোনাভালায় তার ফার্মহাউজটি যার সৌন্দর্য চোখ ধাধিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রায় ১০০ একরের লোনাভালা ফার্মহাউস, মুম্বইয়ে কোলাহলে থাকলেও পরিবার নিয়ে ধর্মেন্দ্র এই শান্ত জায়গায় গিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন। লোনাভালা ফার্মহাউসে রয়েছে অত্যাধুনিক সুইমিং পুল, অ্যাকোয়া থেরাপি-র বিশেষ জায়গা এবং বিরাট সবুজে ভরা বাগান। মহারাষ্ট্রে ১৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ৮৮ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের কৃষি জমি এবং ৫২ লক্ষ টাকার অকৃষি জমি রয়েছে এই অভিনেতার। লোনাভালাতে ১২ একর জমিতে নাকি ৩০টি কটেজের একটি রিসর্ট রয়েছে ধর্মেন্দ্র। প্রকৃতি বরাবর তাঁর খুব পছন্দের। তাই সবুজের মাঝে এই রিসর্ট তৈরি করেছেন তিনি। গাড়ির প্রতি ধর্মেন্দ্রের ভালবাসা ছিল প্রবল। তাঁর জীবনের প্রথম গাড়ি ভিনটেজ ফিয়াট। তাঁর সংগ্রহে আছে একটি রেঞ্জ রোভার ইভোক  যার দাম ৮৫.৭৪ লক্ষ টাকা এবং একটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ এসএল৫০০ যার দাম ৯৮.১১ লক্ষ টাকা। অভিনেতার গ্যারাজে পুরানো দিনের বিলাসবহুল গাড়ি যেমন রয়েছে, তেমনই নতুন যুগের বিলাসিতা সম্পন্ন গাড়িও রয়েছে। এর পাশাপাশি ২০১৫ সালে তিনি নয়াদিল্লিতে গরম ধরম ধাবা বলে প্রথম রেস্তোরাঁ খোলেন। তারপর, ২০২২ সালে, তিনি কর্ণাল হাইওয়েতে ‘হি-ম্যান’ চালু করেন। কেবল ব্যবসা নয়, এই রোস্তোরাঁগুলির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, কীভাবে খ্যাতিকে আরও বড় কিছুতে রূপান্তরিত করা যায়। ধর্মেন্দ্রের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা বিজেতা ফিল্মসও রয়েছে, যা তিনি ১৯৮৩ সালে শুরু করেছিলেন। তিনি ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্রের মাধ্যমেও অনেক টাকা রোজগার করেছেন।এরকম ভাবেই এই মুহূর্তে আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে ধর্মেন্দ্রর স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমান কিন্তু জানা যাচ্ছে এই বিপুল সম্পত্তির অধিকারী কে হবেন তাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে! এই অঢেল সম্পত্তির কিছুই নাকি পাবেন না হেমা মালিনী।

কারণ প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন হি ম্যান, আর  সেই প্রেক্ষিতে তাঁদের বিয়ে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বৈধ নয়। অর্থাৎ স্বামীর সম্পত্তিতে কোন অধিকার নেই হেমার, পেতে পারেন তার প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর।  তবে দ্বিতীয় পক্ষের দুই কন্যা এষা দেওল ও অহনা দেওল বাবার সম্পত্তি পেতে পারেন উত্তরাধিকার সূত্রে। সেক্ষেত্রে তার সম্পত্তি ভাগ হবে তার প্রথম পক্ষের চার সন্তান এবং দ্বিতীয় পক্ষের দুই সন্তান অর্থাৎ ৬ জনের মধ্যে। তবে হ্যাঁ তিনি যদি উইল করে গিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে তিনি সেই উইলে যদি হেমা মালিনীকে কোন সম্পত্তির ভাগ দিয়ে গিয়ে থাকেন তাহলে তিনি পাবেন আর উইল না থাকলে, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন হবে। সেক্ষেত্রে তাঁর স্ব-অর্জিত সম্পত্তি মোট সাতটি সমান ভাগে বিভক্ত হবে। প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর এবং ছয় সন্তান সানি, ববি, বিজেতা, অজীতা, এষা, অহনা প্রত্যেকে সাত ভাগের এক ভাগ করে পাবেন।  সত্যিই সম্পত্তির কি মহিমা তাই না!