“কেন শুধু তৃণমূল নেতাদের গাড়িতেই তল্লাশি?”

“তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সিআরপিএফের গাড়িতে কেন হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন বাদ যাবে?”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ইসলামপুরের জনসভা থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলীয় নেতাদের গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু তৃণমূল নেতাদের গাড়িতেই তল্লাশি হবে? অন্যদের কেন নয়?

সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, “দমদম বিমানবন্দরে আমার গাড়ির কাছেও এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আমি নিজেই বলেছি, চেক করুন। আমি চাই আমার গাড়িও তল্লাশি হোক।” এরপরই নেত্রীর সরাসরি প্রশ্ন, “তৃণমূলের সব নেতার গাড়িতে তল্লাশি হলে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা সিআরপিএফের গাড়িতে কেন হবে না? বিজেপির গাড়ি কেন বাদ যাবে?” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে।

তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট তুলে ধরে দাবি করা হয়, কমিশনের সন্দেহ ছিল নির্দিষ্ট কিছু নেতার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হতে পারে। সেই সূত্রেই তৃণমূলের প্রায় সব নেতা-মন্ত্রীদের গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি চ্যালেঞ্জ, “সাহস থাকলে প্রতিদিন আমার গাড়ি তল্লাশি করুন। আমি ভয় পাই না।”

এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ভোটের সময় ‘টাকা নিয়ে’ রাজ্যে আসছেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ির মাধ্যমেও নানা অনিয়ম হচ্ছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে দেননি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি, কুর্সি কখনও মিথ্যে বলে না।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি একযোগে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

এদিন লোকসভা পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর দাবি, এই দুটি বিলকে একসঙ্গে ব্যবহার করে দেশকে বিভক্ত করার চেষ্টা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “মহিলা বিলের নামে দেশ ভাগের চেষ্টা হচ্ছে। মা-বোনেদের অসম্মান করা হচ্ছে।” যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে।

রাজ্যপালকেও এ দিন আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে, ফলে অশান্তির দায়ও তাদেরই।

পাশাপাশি একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর আশ্বাস, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প আজীবন চলবে, ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের সুবিধাও মিলবে। সব কাঁচা বাড়ি পাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন নেত্রী।

সব মিলিয়ে, পয়লা বৈশাখে রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চ থেকে আক্রমণ, চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিশ্রুতির মিশেলে ভোটের আগে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।