সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। যার চোখা চোখা বাক্যবাণে ক্ষত-বিক্ষত বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা থেকে মন্ত্রীরা। সে কোনও ডিবেট শো হোক কিংবা সোশ্যাল মাধ্যম। শতরূপ ঘোষ মুখ খুললেই অপর শিবিরের নেতারা সজাগ থাকেন এই বুঝি বাক্যবাণ ধেয়ে এল বলে। ভোট বাক্সে লক্ষ্মী লাভ না হলেও বামেদের মরা গাঙে শতরূপই এখন উজ্জ্বল তারা । সেই শতরূপ ঘোষ কিনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মুখ্যমন্ত্রীর কোন অবদান আজীবন মনে রাখার কথা বলছেন শতরূপ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
সোশ্যাল মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা । যেখানে শতরূপ ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাতে শোনা যাচ্ছে। ব্যাপারটা কী। যে শতরূপের কাছে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা কথার ভাঁজে পর্যদুস্ত হন প্রতিনিয়ত, তিনিই কিনা শুভেন্দু অধিকারীর জয়গান করছেন। তবে কি শতরূপের মন ঘুরলো বলে। যে শতরূপকে দেখে বামেদের তরুণ তুর্কিরা নতুন উদ্যোমে ঝাঁপাতে শুরু করেছে তিনিই কিনা শুভেন্দু অধিকারী প্রশংসা করছেন। ব্যাপারটা তাহলে কি। তবে কি বামেদের ঘর ভাঙলো বলে। এই আশা নিয়ে শতরূপের পোস্টের বক্তব্য শুনতে বসলে আপনি আশাহত হবেন। তাঁর বক্তব্যের শুরুটা পজিটিভ হলেও বক্তব্য যত এগিয়েছে ততই পরিস্কার হয়েছে শতরূপের কথার খোঁচা ঠিক কোন দিকে। হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন, এবার পুজোয় অন্যতম বিতর্ক হল বামেদের বুক স্টল ভাঙচুর। যদিও এই সব বিতর্ক পেরিয়ে শতরূপের কথায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারীর কল্যাণেই বামেদের বুক স্টলে এবার লক্ষ্মী লাভ অন্যবারের থেকে বেড়েছে।
এখানেই শেষ নয় শতরূপ ঘোষ বিজেপি বিধায়ক তথা অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত থেকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও বিরুদ্ধেও আঙুল তুলেছেন। সম্প্রতি বামেদের বুক স্টল ভাঙা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন তিনি লজ্জিত। অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিপিআইএমের-এর বইয়ের স্টল ভাঙচুরকে বিজেপি সমর্থন করে না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মন্তব্যেরই তীব্র বিরোধীতা করেছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ।তাঁর দাবি রাজ্যের মানুষের কাছে যখন বুক স্টল ভাঙা নিয়ে খারাপ বার্তা যাচ্ছে তখনই বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা গা বাঁচাতে সাফাই দিচ্ছেন।
শতরূপ ঘোষের মতো অন্যান্য সিপিএম নেতাদেরও একই সুর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে মন্তব্যের কারণেই নাকি সাপে বর হয়েছে তাঁদের। এবারে বই বিক্রির রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে অন্যান্য কয়েক বছরের রেকর্ডকে। সিপিএম সূত্রে খবর, কলকাতা-সহ ১২টি জেলায় মোট ৬৬৫টি বিপণি থেকে মোট ৯৮ লক্ষ ৭ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে, গত বার যা ছিল ৪৮ লক্ষ। যাদবপুরে যে বুকস্টল ভাঙতে বুলডোজার পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল সেখানে গতবার ৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি এবার বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা। তাদের দাবি আরও দাবি শুধু ১২টি জেলাতেই এ বছর বই বিক্রির হার বে়ড়েছে ১০৪ শতাংশেরও বেশি। ২০২৫ সালে যেখানে ৪৮ লক্ষ ৪ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে বই বিক্রি বাবদ অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি করেছে সিপিএম। তবে বই বিক্রির এই হিসেব এখনও চূড়ান্ত নয়। অর্থাৎ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্গাপুজোর সময় রাজ্য জুড়ে পুজো মণ্ডপের বাইরে সিপিএমের বুক স্টলের এই ছবি দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছে রাজ্যবাসী। কিন্তু এ বছর পুজো আসতেই, কলকাতা থেকে শহরতলি হয়ে জেলা, উত্তর থেকে দক্ষিণ, গ্রাম থেকে শহর, একাধিক জায়গায় বামেদের বুকস্টল ভাঙার ছবি উঠে এসেছে। কোথাও স্টলে ভাঙচুর, কোথাও স্টলে ঢুকে বই ফেলে দেওয়া, তো কোথাও বুকস্টলে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ছবি সামনে আসে। সরাসরি আঙুল ওঠে বিজেপির দিকে। এমনকী, চোরবাগান সর্বজনীনে যেদিন পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেদিনও সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে, যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ডে বুকস্টল নিয়ে সিপিএমের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয় পুলিশের। কিন্তু দুর্গাপুজো শেষ হতেই বই বিক্রির হিসাব করতে গিয়েই খুশি সিপিএম নেতারা। সিপিএমের দাবি, কলকাতায় এবছর ১১৯টি স্টল দিয়েছিল সিপিএম। গতবার এই স্টলগুলিতে ২৪ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। সেখানে এবার ৪৭ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এমনকী যাদবপুরের যে বুকস্টল ভাঙতে বুলডোজার পৌঁছে গেছিল, সেখানে গত বছর ৬ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হলেও, এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ টাকা। কলকাতা লাগোয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্টলে গতবার ৮ লক্ষ টাকার বই বিক্রি করেছিল সিপিএম, তা এবার বেড়ে হয়েছে ১১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। এ কারণেই কি শতরূপ ঘোষ খোঁচা দেওয়ার সুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না?