কেন জার্সির পিছনে জোড়া নাম লিখে খেলছেন নরওয়ের নায়ক হালান্ড?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজ়িলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। কোন মন্ত্রে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছে ইউরোপের দেশ?
নির্মম! আর্লিং হালান্ডকে আর কী নামে ডাকে যেতে পারে? নিউ জ়ার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একাই ব্রাজ়িলের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁর জোড়া গোলের জবাব দিতে পারেনি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। নরওয়ের ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির ভাইকিং যোদ্ধা ব্রাজ়িলের দৌড় থামিয়ে দিয়েছেন।
জোগো বোনিতো’ বা সুন্দর ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত ব্রাজ়িল নরওয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য থাকা ম্যাচ পরের ১১ মিনিটে ২-০ হয়েছে হালান্ডের জন্যই। যা সুযোগ পেয়েছেন, কাজে লাগিয়েছেন। তাঁকে আটকাতে পারেনি ব্রাজ়িলের রক্ষণ।
সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোই হালান্ডের দায়িত্ব। বক্স স্ট্রাইকার তিনি। নিজের কাজ করে দেখিয়েছেন। খেলা শেষে হালান্ড বলেন,“যদি এক-দুটো সুযোগ পাই, তার মধ্যেই গোল করে ফেলি। আমি জানি না কী ভাবে করি। কিন্তু হয়ে যায়।”
হালান্ড ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটি করেছেন হেডে। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতায় হওয়ায় এমনিই বাড়তি সুবিধা পান। ব্রাজ়িলের দুই ডিফেন্ডারের মাঝে লাফিয়ে হেড করতে অসুবিধাই হয়নি। দ্বিতীয় গোলটি ব্রাজ়িলকে আরও লজ্জায় ফেলার মতো। অন্তত তিন জন ডিফেন্ডার দাঁড়িয়েছিলেন সামনে। তাঁদের পিছনে ছিলেন ব্রাজ়িলের গোলকিপার। বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাঁ পায়ে মাটি ঘেষা শট মারেন তিনি। সকলকে টপকে বল জালে জড়িয়ে যায়। বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাসই দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। যেন এ রকম গোল বাজার যাওয়ার পথে হামেশাই করে থাকেন। ম্যাচের শেষে সমর্থক এবং সতীর্থদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ করতেও দেখা যায় তাঁকে। হালান্ড বুঝিয়েছেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
এ বারের বিশ্বকাপ হালান্ডের কাছে আলাদা। ২৮ বছর পর আবার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। প্রথম বার নকআউটে উঠেছে। আর সেখানে প্রতিপক্ষ যদি ব্রাজ়িল হয়, তো বাড়তি তাগিদ তো থাকবেই। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন হালান্ড। সেই ফর্ম বজায় রয়েছে তাঁর।
গত মাসে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে হালান্ড জানিয়েছিলেন, এ বারের প্রতিযোগিতা তাঁদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বলেছিলেন, “প্রতি বার অপেক্ষা করেছি। এত বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। কিছুতেই হচ্ছিল না। এ বার সুযোগ পেয়েছি। তা কাজে লাগাতে হবে।” হালান্ড সেই লড়াইয়ে পাশে পেয়েছে ওডেগার্ডের মতো প্রিমিয়ার লিগজয়ী অধিনায়ককে। একসঙ্গে মিলে এগিয়ে চলেছেন তাঁরা।
এ বারের বিশ্বকাপে নামার আগেই অবশ্য ক্লাব ফুটবলে তারকা হয়ে উঠেছেন হালান্ড। পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যাঞ্চেস্টার সিটির বড় ভরসা তিনি। ২০২৩ সালে শুধু প্রিমিয়ার লিগে ৩৬ গোল করে এক মরসুমে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড গড়েছেন। জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। সেই হালান্ড এ বার ডানা মেলছেন বিশ্বকাপে।
তবে এ বার হালান্ডের জার্সিতেও দেখা গিয়েচে চমক। সেখানে শুধু হালান্ড নয়, লেখা রয়েছে ‘ব্রাউট হালান্ড’। ব্রাউট তাঁর মা গ্রি মারিতা ব্রাউট থেকে নেওয়া। বাবা আল্ফ-ইঙ্গে হালান্ড থেকে নেওয়া হালান্ড। অর্থাৎ, মা ও বাবার উপাধি জার্সিতে নিয়ে খেলছেন তিনি। নরওয়ের সংস্কৃতিতে এই দৃশ্য খুব পরিচিত। অনেক ফুটবলারই জার্সিতে বাবা ও মায়ের নাম লিখে খেলেন। সেই কাজই করেছেন হালান্ড। স্বপ্নপূরণের মঞ্চে সবচেয়ে কাছের দু’জনের উপাধি জার্সিতে নিয়ে খেলতে নেমেছেন তিনি।