GIMSH : এক ছাদের তলায় মা ও নবজাতকের চিকিৎসা

প্রসূতি বিভাগ, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র এবং শিশু চিকিৎসা—  তিনটি পরিষেবা একই হাসপাতালে। দুর্গাপুরে গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের উদ্যোগ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: সন্তানের জন্ম জীবনের এক আনন্দঘন মুহূর্ত হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। প্রসবের সময় বা তার পরপরই নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে মা বা নবজাতকের শরীরে। দীর্ঘদিন ধরেই জেলার বহু পরিবারকে এমন পরিস্থিতিতে বড় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে— এক জায়গায় প্রসব, আর নবজাতকের জটিলতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়। অনেক সময় যাত্রাপথেই মা-শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

চিকিৎসকদের মতে, এইসব ক্ষেত্রে নবজাতকের জীবনের প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টিকে অনেকেই ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলে উল্লেখ করেন।ওই সময়ের মধ্যেই যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়, তবে বহু ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়। সেই কারণেই মাতৃ ও নবজাতক চিকিৎসা একসঙ্গে হয়, এমন পরিকাঠামোর গুরুত্ব বাড়ছে।

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল (জিআইএমএসএইচ)-এ এমনই পরিষেবা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রসূতি বিভাগ, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (নিকু) এবং শিশু চিকিৎসা— এই তিনটি পরিষেবা একই হাসপাতালের মধ্যে পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ হয়।

প্রসবের সময় যদি কোনও জটিলতা ধরা পড়ে— যেমন অকাল প্রসব, শ্বাসকষ্ট বা ভ্রূণের অস্বাভাবিকতা— তবে হাসপাতালের নবজাতক বিশেষজ্ঞরা সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। প্রসবকক্ষ থেকে সরাসরি নবজাতককে আধুনিক যন্ত্রপাতি-সমৃদ্ধ নিকুতে নিয়ে যাওয়া যায় সহজেই। এতে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। ফলে মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে শীঘ্রই মা-শিশুকে সুস্থ করে ফেলা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থার জটিল সমস্যাগুলির ক্ষেত্রেও এই ধরনের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বা ভ্রূণের বিকাশজনিত সমস্যা ধরা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে একাধিক বিভাগের চিকিৎসক একসঙ্গে চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে পারেন। প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নবজাতক বিশেষজ্ঞ, শিশু চিকিৎসক কিংবা অন্য বিভাগের চিকিৎসকদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চিকিৎসা পরিষেবার ধারাবাহিকতাও এই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিশুর জন্মের পর তার চিকিৎসা বা টিকাকরণের সময় চিকিৎসকদের কাছে মায়ের গর্ভাবস্থার সমস্ত তথ্য সহজেই পাওয়া যায়। ফলে শিশুর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও নির্ভুল হয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

পরিবারের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই ধরনের ব্যবস্থার গুরুত্ব রয়েছে। অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা যেত, মা একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অসুস্থ নবজাতককে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপও বাড়ত, তেমনই চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা জটিলতাও তৈরি হত।

একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমস্ত পরিষেবা থাকলে পরিবারকে সেই সমস্যার মুখে পড়তে হয় না। পাশাপাশি হাসপাতালটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিভিন্ন সরকারি ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে এই ধরনের চিকিৎসা মডেল ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জেলা শহরগুলিতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের।