নিহত খামেনেই : ভারত কেন দুঃখপ্রকাশ করল না ?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোড়ন। কিন্তু ভারতের নেতৃত্বরা কী বলছেন ? খামেনেই এবং ইরানকে নিয়ে কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)  নেতৃত্বাধীন সরকার আপাতত ‘সংযত নীরবতা’র পথেই হাঁটছে। রবিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (Mark Carney)-র সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গভীরভাবে উদ্বেগজনক। ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জি সেভেন-অন্তর্ভূক্ত কোনও গণতান্ত্রিক দেশই শোকবার্তা দেয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) খামেনেইকে ইতিহাসের “অত্যন্ত দুষ্ট” ব্যক্তিদের একজন বলে মন্তব্য করেছেন। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) বলেন, “৪৭ বছর ধরে যে শাসন ইজ়রায়েলের ধংসের স্লোগান তুলেছে, তারই শেষ পরিণতি হয়ে গেল।” ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি  মন্তব্য করেন ‘অশুভ শাসন’-এর নেতার মৃত্যুতে খুব কম নেতাই শোকপ্রকাশ করবেন। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপান উদ্বেগ প্রকাশ করলেও শোকবার্তা দেয়নি।

৫৭ সদস্যের অরগ্যানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশনের (Organisation of Islamic Cooperation) মধ্যেও সীমিত সমর্থন দেখা গিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) একে “নির্দয় হত্যাকাণ্ড” বলেছেন। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এই হত্যাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে আখ্যা দেন। তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া-সহ কয়েকটি দেশও ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছে।

ভারতের অবস্থানকে ‘জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক’ বলেই ব্যাখ্যা করছে কূটনৈতিক মহল। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যেখানে বিপুল ভারতীয় প্রবাসী বসবাস করেন। সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই প্রতিক্রিয়া দেবে ভারত।

কাশ্মীর ইস্যু, অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহার বা দিল্লি দাঙ্গা প্রসঙ্গে খামেনেইর মন্তব্যে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। অতীতে পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থায় ভোটাভুটি, কিংবা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরে ইরানি তেল আমদানি কমানো—সব ক্ষেত্রেই ভারত জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের নীরবতাকে বিরোধীরা প্রশ্নের মুখে ফেললেও সরকার মনে করছে, অযথা আবেগান্বিত হয়ে কোনও মন্তব্য নয়। কূটনৈতিক সংযমই এই মুহূর্তে ভারতের পক্ষে শ্রেয়।