আন্তর্জাতিক মস্তিষ্ক দিবস বা বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস প্রতিবছর জুলাই মাসের ২২ তারিখ। এটি ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি দ্বারা আয়োজিত একটি উদ্যোগ ।যেখানে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই দিবসের লক্ষ্য। সকল মানুষের মধ্যে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই দিনটি পালন।

মৌসুমী সাহা, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- আন্তর্জাতিক মস্তিষ্ক দিবসের মৌলিক দিকগুলি হচ্ছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রচার করা। এ বছরের থিম হচ্ছে “সকল বয়সের জন্য মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য” যেখানে বিশ্বব্যাপী মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়।কারণ জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সুস্থতা, দৃঢ় সম্পর্ক,এবং স্বাধীনতার জন্য একটি সুস্থ মস্তিস্কের দরকার।

মানুষের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক শরীরের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অঙ্গ গুলির মধ্যে অন্যতম।আর নানা কারণে এতে ক্ষতি হতে পারে তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে এবং মস্তিষ্ককে বেশি ক্ষমতাশালী করতে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।যেমন…..
আপনার মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ড এবং প্রতি মুহূর্তে কাজ করছে অথচ তাকেই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করা হয় ।আমরা যদি হৃদরোগ, ফিটনেস বা পুষ্টির ওপর মনোযোগ দিই। মস্তিস্কের যত্নটাও কিন্তু আমাদের মন দিয়ে করা দরকার। আর সেটা না করা হলেই সমস্যা তৈরি হয় ব্রেইনে বা মস্তিষ্কের।

শাকসব্জি, বেরি,মাছ ,বাদাম,এবং গোটা শস্য সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য প্রয়োজন।পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ আপনার মস্তিষ্ককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। সর্বোপরি অ্যালজাইমার রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের রক্ত সংযোজন বৃদ্ধি করে নতুন নিউরনের দৃষ্টিতে সহায়তা করে।যা যে কোন চিন্তাভাবনা বাড়াতে সাহায্য করে ।তিরিশ মিনিট হাটা, সাঁতার কাটা সাইকেল চালানোর মতো কার্যকলাপ ডিমেনশিয়াল ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিরাতে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম মস্তিষ্ককে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করতে এবং নিজেকে মেরামত করতে সাহায্য করে। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব হলে নিউরোজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দলগত কার্যকলাপ হতাশা এবং বয়স সম্পর্কিত অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । সামাজিক যোগাযোগ উন্নত মানসিকতার বিষয়টি ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ মস্তিষ্ক ভালো রাখার ক্ষেত্রে। মাথায় যাযে কোন রকম ভাবে কোন আঘাত না লাগে সে দিকটাও কিন্তু লক্ষ্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ ।সাইকেল চালানো , খেলাধুলার সময় সব সময় হেলমেট প রতে হবে ।যানবাহনের সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে ।যাতে কোন রকম ভাবে পড়ে গিয়ে কোন দুর্ঘটনাকে ঝুঁকি না থাকে। মানসিক চাপ কমাতে হবে কারণ মানসিক চাপ ক্ষতি করতে পারে মস্তিষ্কের ।এতে স্মৃতিশক্তি সমস্যা হয়, বিষন্নতার ঝুঁকি বাড়ে তাই প্রতিদিন ধ্যান বা মেডিটেশন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।কারণ তাকে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ হয়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে আমরা যত অগ্রাধিকার দেব ততোই স্নায়বিক রোগের বোঝা কমবে।মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য আমাদের জন্মের আগে থেকে যত্ন শুরু করতে হয় ,তবেই আমাদের জীবনের মান বজায় থাকে।