সুভাষ দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুরে দুর্গাপুজো কার্নিভালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। তা নিয়েও চড়ল রাজনৈতিক পারদ।

বিক্ষোভে ফেটে পড়ল বিজেপি। দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক দফতরের সামনে এবং এসডিও বাংলোর সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন বিজেপি নেতৃত্বরা। বাংলার সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে বিজেপি, এই বলে তীব্র কটাক্ষ করেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপি জেলা সহ সভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “এক বাংলাদেশি নাগরিককে রাজ্য সরকারের পুজো কার্নিভালের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত। রাজ্যের নিজস্ব শিল্পী-সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে বাইরে থেকে তারকা এনে গ্ল্যামার দেখানো মানে বাংলার শিল্পীদের অপমান।” এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘বাংলার গর্ব, বাংলার মঞ্চে বিদেশি কেন?’ এই স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। ঘটনার জেরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “দুর্গাপুরের মতো শহরে জয়া আহসানের মতো শিল্পীর আগমন সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতীক। এটাকে রাজনীতির রঙে রাঙানো উচিত নয়। বাংলার সংস্কৃতিকে বিজেপি বারবার কালিমালিপ্ত করছে। বাংলার মানুষ এর বিচার করবে।শিল্পীর কোনও জাত, ধর্ম, বর্ণ হয় না। যারা শিল্পীদের এই নজরে দেখেন, তারা সনাতনী হতে পারেন না। তারা হল অধঃপতনী। তারা ভারতবর্ষকে পিছিয়ে দিচ্ছে। শিল্পী শি্ল্পীর জায়গায় থাকবে। জয়া আহসানের প্রচুর সিনেমা উপভোগ করেছেন দুই বাংলার মানুষ। আমরা কৃতজ্ঞ যে আমাদের ডাকে সারা দিয়ে তিনি দুর্গাপুরের কার্নিভালে সামিল হয়েছেন। কে কী বলল তাতে যায় আসে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সেই কথা মেনে উৎসবের এই মেলবন্ধনে জয়া আহসানকে স্বাগত জানাই।” বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের নিশানা করে বললেন তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ।