রাজ্যে পালা বদলের পর সমস্ত বিষয়ে বিধি-নিষেধ হয়েছে তেমন ছট পুজো এবং দীপাবলিতে আতশবাজি এবং মানুষের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। ফানুস একেবারেই ওড়ানো যাবে না এমনটা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ফানুস ওড়ানোয় ছাড় রয়েছে কিন্তু তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। তবেই ফানুস ওড়ানো যাবে।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা
এমনই এক বাড়ির গল্প আজ আপনাদের জানাবো উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটে ভোলানাথ ধাম ফানুস বাড়ি নামে পরিচিত
উত্তর কলকাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ শতাব্দীপ্রাচীন লোকসংস্কৃতি বীডন স্ট্রিটের ভোলানাথ ধামের (দত্তবাড়ি)। কেনো এই বাড়ি ফানুস বাড়ি নামেই পরিচিত? প্রতি বছর কালীপুজো ও দীপাবলির আবহে এই উৎসবের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করেন শহরের মানুষ, শুধু কলকাতা শহরেই নয় কলকাতা শহরের বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ এই ফানুস ওড়ানো উপভোগ করতে আসেন এই বাড়িতে।

শোনা যায় এই দত্ত পরিবার আগে শোভাবাজারে বাস করত। পরবর্তীতে ১৯২৫ সালে মানিকতলার বীডন স্ট্রিটের এই নতুন বাসভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে নিয়মিতভাবে ফানুস ওড়ানো শুরু শুরু করেন এই পরিবারের লোকজন। গত বছর ২০২৫ সালে এই উৎসব গৌরবময় ১০০ বছর পূর্ণ করেছে। এবারে ১০১ তম উৎসব, যদিও প্রশাসনিক বিধি-নিষেদে আটকা পড়েছে শতাব্দি প্রাচীন এই ফানুস ওড়ানো। এই উৎসবের মূল কাণ্ডারি হলেন পরিবারের প্রবীণ সদস্য শ্রী অজয় দত্ত। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর বাবা যাদবলাল দত্তের কাছ থেকে এই ফানুস তৈরির শিল্প রপ্ত করেছিলেন। বর্তমানে তাঁর তত্ত্বাবধানেই পরিবারের নতুন প্রজন্ম এই শিল্প টিকিয়ে রাখছে।
এখানকার ফানুসগুলো সাধারণ কাগজের নয়। অত্যন্ত সূক্ষ্ম টিস্যু পেপার, কাপড়, আঠা এবং তারের সমন্বয়ে একেকটি বড় ফানুস তৈরি করতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লাগে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন। তাদের থেকে জানা গিয়েছে আগে মূলত ঘটি, কলসি, তারা বা বেলুন আকৃতির প্রথাগত ফানুস ওড়ানো হতো। তবে বর্তমান যুগে সত্যজিৎ রায়, নারায়ণ দেবনাথের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা জানিয়ে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক থিম ফুটিয়ে তুলে অভিনব সব ফানুস তৈরি করা হয়।
প্রতি বছর কালীপুজোর দিন (দীপাবলি) এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাধারণত কালীপুজোর দিন বিকেল ২:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়ির ঠাকুরদালান এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ থেকে ফানুসগুলো আকাশে ওড়ানো শুরু হয়। দিনের আলো থাকতে থাকতেই এই ওড়ানোর পর্ব চলে, যাতে ফানুসের বৈচিত্র্যময় রঙ ও অবয়ব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
শতাব্দি প্রাচীন এই বাড়িটি বাড়িটি উত্তর কলকাতার হেদুয়া পার্ক ও মানিকতলার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত। গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনে (Girish Park Metro Station) নামতে হবে। সেখান থেকে বীডন স্ট্রিট ধরে মানিকতলার দিকে হেঁটে বা একটি রিকশা নিয়ে ৫-৭ মিনিটে ৩৩/২ নম্বর বাড়িতে (ভোলানাথ ধাম) পৌঁছে যেতে পারবেন। তবে কালীপুজোর দিন বিকেলের দিকে উত্তর কলকাতার এই অঞ্চলে প্রচণ্ড ভিড় ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি থাকে।