নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল শিক্ষায় নতুন দিশা দেখাচ্ছে দুর্গাপুরের ‘রাহুল ফাউন্ডেশন’।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শুধু চিকিৎসক নন, সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নার্স, ল্যাব টেকনোলজিস্ট, ক্রিটিক্যাল কেয়ার টেকনিশিয়ান কিংবা অপারেশন থিয়েটার সহকারীরা। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের বহু পড়ুয়া এখন নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল শিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু কোথায় পড়লে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি— সেই প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দুর্গাপুরের রাহুল ফাউন্ডেশনের অধীনে থাকা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষামহলে। গৌরী দেবী নার্সিং অ্যাকাডেমি (জিডিএনএ), মনীষা নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং গৌরী দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল (জিআইএমএসএইচ)-এর প্যারামেডিক্যাল বিভাগ— এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কাঠামোকে অনেকেই আধুনিক স্বাস্থ্যশিক্ষার এক কার্যকর মডেল হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হল ‘প্যারেন্ট হাসপাতাল’ বা নিজস্ব হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। অনেক নার্সিং কলেজেই পড়াশোনার পাশাপাশি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বাইরে আলাদা করে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু দুর্গাপুরে রাহুল ফাউন্ডেশনের ক্যাম্পাসেই রয়েছে প্রায় ১০০ একর জুড়ে বিস্তৃত পরিকাঠামো এবং প্রায় এক হাজার শয্যার বহুমুখী হাসপাতাল।
এর ফলে পড়ুয়ারা প্রথম থেকেই হাসপাতালের বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। রোগীর ভিড়, বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্ম, জরুরি পরিস্থিতি— সবই কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে হাসপাতালের ৯০ শয্যার আধুনিক আইসিইউতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রযুক্তি নিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা সরাসরি উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার ও আইসিইউ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
এ ছাড়াও একাধিক বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা পড়ুয়াদের শেখার সুযোগ বাড়ায়। জিআইএমএসএইচ-এ ২০টিরও বেশি চিকিৎসা বিভাগ, আধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, এমআরআই-সহ নানা চিকিৎসা পরিকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক গ্রন্থাগার, যেখানে হাজারের বেশি চিকিৎসা সংক্রান্ত বই ও গবেষণাসামগ্রী সংরক্ষিত আছে। চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনিশিয়ান— সবার একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
পাশাপাশি পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনের দিকে। অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার টেকনোলজি, মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি— এমন বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্স চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি বিএসসি নার্সিং ও জিএনএম কোর্সও রয়েছে, যেখানে রোগী পরিচর্যা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তৃত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে হাসপাতালের সরাসরি সংযোগ থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। ইন্টার্নশিপের সময় থেকেই অনেক পড়ুয়া হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে তাঁদের একাংশ সেখানেই কাজের সুযোগ পান। আবার অনেকেই কলকাতা বা দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও চাকরি পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর শিক্ষা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতাই এই ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই দিক থেকে হাসপাতাল-কেন্দ্রিক এই ধরনের শিক্ষামডেল আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।