কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার, বনগাঁ ও নৈহাটিতে পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় সিপিএমের বুকস্টল তৈরি নিয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এরই মধ্যে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকুরিয়ায় সিপিএম এবং সিপিআই-এমএল (লিবারেশন)-এর বুকস্টল নির্মাণের সময় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ৪০-৫০ জনের একটি দল সেখানে এসে হামলা চালায়।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা
সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক প্রবীর দেবের অভিযোগ, কাছেই বিজেপির অফিস রয়েছে। সেখান থেকেই লোকজন এসে স্টল ভেঙে দেয়। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে নারাজ। ভাঙচুরের ঘটনার পর থানার সামনে টানা বিক্ষোভ দেখায় বাম দলগুলি।
অন্যদিকে, শারদোৎসবের সময় বুকস্টল তৈরির অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে না পাওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। বনগাঁ ও নৈহাটিতে পুজো প্যান্ডেল সংলগ্ন জমিতে স্টল তৈরির অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা। সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার।
শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, সিপিএম লটারির দোকান করছে না, বুকস্টল করতে চাইছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা গণতান্ত্রিক বিরোধিতার পরিপন্থী। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, সিপিএম যে জায়গায় স্টল করতে চাইছে, সেটি পূর্ত দফতরের (পিডব্লিউডি) জমি। অথচ সেই দফতরের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অন্য স্টলগুলি পিডব্লিউডি অথবা কলকাতা পুরসভার অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছে কি না। রাজ্যের নীতি সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বুকস্টল তৈরির অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় রিপোর্ট তলব করেছে আদালত। বুধবারের মধ্যে তদন্ত করে বৃহস্পতিবার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিতর্কে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। সিপিএমের দাবি, বই বিক্রি ও সাহিত্যচর্চার জন্য বুকস্টল তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, জমির মালিকানা ও অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে সিপিএম পার্টি অফিসের সামনে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের যে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে তার অনুমতি কি নেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলেন বিচারপতি। একই সঙ্গে বামেদের বুক স্টল ছাড়া আর পুজো প্যান্ডেলের আশেপাশে পিডব্লিউডির জায়গায় যে সমস্ত স্টল হয়েছে, তার নির্দিষ্ট অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়েছেন বিচারপতি।