টিভি দেখতে আর ডিশ লাগবে না, হাতে থাকা ফোনই যথেষ্ট!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একসময় টেলিভিশন মানেই ছিল ছাদের উপরে থাকা গোল ডিশ। পাহাড়, মরুভূমি, দ্বীপ—যেখানে কেবিল পৌঁছয়নি, সেখানেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টিভি দেখে উপভোগ করেছেন মানুষজন। কিন্তু ২০২৬-এ সম্প্রচারের ময়দানে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম হল ৫জি ব্রডকাস্ট বা ডাইরেক্ট-টু-মোবাইল (ডি২এম) প্রযুক্তি।
ইতালির Milano Cortina Winter Olympics-এ এই প্রযুক্তির বড়সড় পরীক্ষা চলছে। একই সময়ে ভারতে Prasar Bharati ১৯টি শহরে পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা হল—টিভি দেখতে আর ডিশ লাগবে না, হাতে থাকা ফোনই যথেষ্ট।
এখন মোবাইলে বাজেট ভাষণ বা ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গেলে ভালো ডেটা খরচ হয়। ৫জি ব্রডকাস্ট সেই সমীকরণকে বদলে দেয়। এটি অনেকটা পকেট রেডিয়োর মতো কাজ করে। টাওয়ার থেকে সরাসরি সিগন্যাল আসবে ফোনে। সিম কার্ড বা ইন্টারনেট প্ল্যানের প্রয়োজন নেই।
আরও বড় বিষয় হল – নেটওয়ার্কের চাপ। সাধারণ স্ট্রিমিংয়ে একসঙ্গে ১০ লক্ষ মানুষ ম্যাচ দেখলে নেটওয়ার্ক ধাক্কা খায়। কিন্তু ৫জি ব্রডকাস্টে সিগন্যাল একবারই পাঠানো হয়— সে একজন দেখুক বা এক কোটি মানুষ। ফলে নেটওয়ার্কে বাড়তি চাপ পড়ে না।
ভারতে এই ডি২এম উদ্যোগকে ঘিরে কর্পোরেট অন্দরে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। আইআইটি কানপুর ও প্রসার ভারতীর যৌথ উদ্যোগে ভিডিও ট্র্যাফিক—যা বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করে—তাকে ৪৭০–৫৮২ মেগাহার্টজ ব্রডকাস্ট ব্যান্ডে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা।

স্বাভাবিকভাবেই টেলিকম সংস্থাগুলির কপালে ভাঁজ। Reliance Jio ও Bharti Airtel-এর মতো সংস্থার আয়ের বড় অংশ আসে ডেটা খরচ থেকে। যদি লাইভ খেলা ও খবর ডেটা ছাড়াই মোবাইলে দেখা যায়, তবে গড় আয় (ARPU) কমার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে প্রযুক্তিগত বাধাও কম নয়। অধিকাংশ বর্তমান স্মার্টফোনে ডি২এম সিগন্যাল ধরার মতো চিপসেট নেই। যদিও ২০২৭-এর পর বাজারে আসা ফোনে এই সুবিধা বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে সূত্রের খবর।
তাহলে কি স্যাটেলাইট টিভির শেষদিন ঘনিয়ে এল ? বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোপুরি নয়। স্যাটেলাইট এখন অন্য ভূমিকায় সরে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত হিমালয়, আন্দামানের ছড়ানো দ্বীপপুঞ্জ—সেখানে ৫জি টাওয়ার বসানো আর্থিকভাবে লাভজনক নয়। স্যাটেলাইট এক লহমায় গোটা ভূখণ্ড কভার করতে পারে।
উল্টোদিকে, ৫জি পরিষেবার বিস্তারে স্যাটেলাইটই হয়ে উঠছে মেরুদণ্ড। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট—যেমন OneWeb ও Starlink—দূরবর্তী টাওয়ারগুলিকে ইন্টারনেট জোগাচ্ছে। অর্থাৎ, ডিশ হয়তো চোখের আড়ালে যাবে, কিন্তু স্যাটেলাইট থাকবে অদৃশ্য ভিত্তি হিসেবে।
চূড়ান্ত ছবি তাই ‘হাইব্রিড’। শহুরে ও মোবাইল ব্যবহারকারীদের দখল নেবে ৫জি ব্রডকাস্ট। আর গ্রামীণ, স্থির টিভি-দর্শকদের জন্য স্যাটেলাইট থাকবে ভরসা। ছাদের ডিশের যুগ ফুরোতে পারে, কিন্তু সম্প্রচারের লড়াইয়ে স্যাটেলাইট এখনই ইতিহাস নয়।