এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনেও পথে বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার দিল্লির গান্ধী স্মারকে শান্তিপূর্ণ ধর্না ঘোষণা করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা গান্ধী স্মারকের উদ্দেশে রওনা হন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি।
খাড়গে বলেন, “আমরা গান্ধী স্মারকে শান্তিপূর্ণ ধর্নায় বসব। সেখানে প্রার্থনা করব, যাতে বিজেপি সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বুঝতে পারেন, তাঁদের কাজ দেশের স্বার্থে নয়।” ভোটার তালিকার ‘গরমিল’, মূল্যবৃদ্ধি, যুব সমাজের সমস্যা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে সরব হন তিনি।
খাড়গের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে যে অধিকার দেশ পেয়েছে, তা খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মানুষের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার বল্লভভাই পাটেলের মতো নেতাদের লড়াইয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার দাবিতেই গান্ধী স্মারকে ধর্না হবে বলে জানান তিনি।
এ দিন আরও তীব্র আক্রমণ শানান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমার এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’-এর অভিযোগ তোলেন তিনি। রাহুলের দাবি, প্রায় ৩০০ সাংসদ শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করতে চাইলেও গত দু’দিন ধরে তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।
রাহুল বলেন, প্রথম দিন নির্বাচন কমিশনের সামনে এবং দ্বিতীয় দিন যন্তর মন্তরের কাছে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের ‘মারধর’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “দেশের সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে, ভোট চুরি করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
বৃহস্পতিবার খাড়গের আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার পাশাপাশি আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাসও যোগ দেন। বৈঠক শেষে সকলেই গান্ধী স্মারকের উদ্দেশে রওনা হন।
মঙ্গলবার নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিল এবং বুধবার যন্তর মন্তরের কাছে বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিই বিরোধীদের টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলন।