গত দুবারের নির্বাচনের ফল কী বলছে ? পুরনো ধারাই বজায় থাকবে নাকি নতুন করে ইতিহাস গড়া হবে ?

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের একবার জোর চর্চা—লড়াই কি হবে হাড্ডাহাড্ডি, নাকি স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ের ধারা বজায় থাকবে? ২০১৬ সালের নির্বাচনে বেশিরভাগ আসনেই জয়ের ব্যবধান ছিল মাঝারি স্তরে। প্রায় ৭৪ শতাংশ আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার ভোটের মধ্যে। ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ী আসনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু ২০২১-এ ছবিটা বদলাতে শুরু করে। সেই নির্বাচনে ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ের আসন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ শতাংশে। একই সঙ্গে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজারের ব্যবধানের আসন কিছুটা কমে যায়।
এই পরিবর্তন স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—ভোটাররা ক্রমশ নির্দিষ্ট দলের পক্ষে বেশি জোরালোভাবে ঝুঁকছেন। অর্থাৎ, ফলাফল শুধু জয়-পরাজয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, ব্যবধানও হয়ে উঠছে তাৎপর্যপূর্ণ।
এই প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (AITC). ২০২১ সালে ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধানে তারা জেতে ১১৮টি আসনে। অন্যদিকে বিজেপি (BJP) এই বিভাগে জেতে মাত্র ১৩টি আসনে। যদিও বিজেপি ছোট ও মাঝারি ব্যবধানের আসনে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে, বড় ব্যবধানের লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রাধান্য স্পষ্ট।
তবে পুরো ছবিটা একপেশে নয়। এখনও কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নজির রয়েছে। ২০২১ সালে মাত্র ৭টি আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ১ হাজারের কম। বালুরঘাট, দাঁতন, কুলটি, তমলুক, জলপাইগুড়ির মতো কেন্দ্রগুলিতে শ্বাসরুদ্ধ লড়াই হয়েছে। বিশেষ করে তমলুক—ঐতিহাসিকভাবেই যেখানে অল্প ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়।
অন্যদিকে, বড় ব্যবধানের জয়ের নজিরও কম নয়। গোসাবা, দিনহাটা, সুজাপুর, খড়দহ বা মেটিয়াবুরুজের মতো কেন্দ্রে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধান দেখিয়েছে একতরফা জনসমর্থন কাকে বলে।
রাজ্যের শাসকদল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে তৃণমূল এই সুবিধা পেয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে ধীরে ধীরে জমি শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধী শিবিরও।
এবার প্রশ্ন হল – ২০২৬ সালের ভোটে কি এই ডিসিসিভ ধারা বজায় থাকবে, নাকি বাড়বে টানটান লড়াইয়ের প্রবণতা ? আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পরই মিলবে সেই উত্তর। ভোটের ফলাফলের ব্যবধানই বলে দেবে—বাংলার রায় কতটা স্পষ্ট।