এবার থেকে হিন্দুদের তীর্থ যাত্রাতেও টাকা নেবে বিজেপি? বিজেপির শুধু মুখেই হিন্দুত্ববাদ ? প্রসঙ্গ যদি হয় মুনাফার, বিজেপি সেখানে পারে না এমন কিছু নেই। বিজেপির সৌজন্যেই যেন ফিরল জিজিয়া কর।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : বিজেপির এই কথায় কথায় হিন্দুত্বের ধ্বজা ওড়ানো যে আদতে কতটা ফাপা বুলি তা কিন্তু একেবার স্পষ্ট। নাহলে হিন্দুদের থেকে কর নেওয়ার মত কাজ বা সিদ্ধান্ত তারা নিত না। বিজেপির সৌজন্যে কি এবার হিন্দুরা নিশ্চিন্তে তীর্থ যাত্রাটুকুও করতে পারবে না? ইতি মধ্যেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ রেজিস্ট্রেশনের নামে বিজেপি রীতিমতো কর নিচ্ছে হিন্দুদের থেকে তাও আবার তীর্থ করতে গেলে। বিজেপির এই কাজের জন্য এবার চার ধাম যাত্রা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। শুধুমাত্র বিজেপির জন্যে হিন্দুদের পবিত্র ৪ ধাম যাত্রা আর বিনামূল্যে নয়। এখন থেকে যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথে তীর্থযাত্রায় যেতে হলে সরকারকে দিতে হবে টাকা। সরাসরি কর না বললেও রেজিস্ট্রেশনের নামে টাকা পুণ্যার্থীদের থেকে এই টাকা আদায় করতে চলেছে উত্তরাখণ্ডের ডবল ইঞ্জিন সরকার। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এতদিন এই যাত্রা বিনামূল্যে হলেও এখন থেকে চারধামে যেতে গেলে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করতে হবে তীর্থযাত্রীদের। যার জন্য লাগবে রেজিস্ট্রেশন ফি। মঙ্গলবার এক বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, মুখে হিন্দুত্বের বুলি আওড়ানো বিজেপি সরকার কর আদায়ের জন্য চারধাম যাত্রাকেও ছাড় দিল না। যদিও গাড়োয়ালের কমিশনার বিনয়শঙ্কর পাণ্ডে জানিয়েছেন, অনেক সময়েই ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন করা হয়। অনেকেই বলছেন বিজেপির এই কর যেন ফের ফিরিয়ে আনছে মুসলিম যুগের জিজিয়া করকে। ভারতে প্রথম জিজিয়া কর চালু করেন দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবক। তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ভারতে অমুসলিম প্রজাদের ওপর এই কর আরোপ করেছিলেন। সেই সময় অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার নিরাপত্তার বিনিময়ে এই কর নেওয়া হতো এছাড়া, অমুসলিমদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হতো. ইতিহাসবিদদের মতে এই কর নেওয়ার আড়ালে দুটো বড় কারণ ছিল এক কোষাগার পূরণ কর আর দুই, অমুসলিমদের মুসলিমে পরিণত করা। ঔরঙ্গজেবের আমলে এই কর ভয়াবহ আকার নেয়। সুতরাং সেই মোঘলদের আমলে হিন্দুদের যেমন ধর্মীয় স্বাধীণতার জন্য কর দিতে হত, আজ এতদিন বাদেও এই স্বাধীন ভারতে ফের ফিরে এল হিন্দুদের কর দেওয়ার এই প্রথা, যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত শোরগোল ফেলে দিয়েচে আর সবেচেয়ে বড় কথা কারা এই কাজ করছে? যারা সব সময় হিন্দুদের জন্য এত কথা বলে, অর্থাৎ বিজেপি যে হিন্দুত্বের কথা বলে ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে চায় তাঁদের কাছ থেকে রেজিস্টড়েশোনের নামে কর আদায় করছে, বিজেপির এই ঘ্রণ্য ষড়যন্ত্র ফাঁস হতে তা নিয়ে কথা আলাপ আলোচনা তো হবেই। আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে চারধাম যাত্রা। এতদিন এই যাত্রা বিনামূল্যে হলেও এখন থেকে চারধামে যেতে গেলে অনলাইনে নাম নথিভুক্ত করতে হবে তীর্থযাত্রীদের। যার জন্য লাগবে রেজিস্ট্রেশন ফি। এক বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। উত্তরাখণ্ডের পৌড়ি গাড়োয়াল জেলায় অবস্থিত এই পবিত্র ৪ ধাম। গাড়োয়ালের কমিশনার বিনয়শঙ্কর পাণ্ডে বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ৪ ধামে আসার জন্য ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন করছেন তীর্থযাত্রীরা। যার জেরে অনেক টাকা খোয়াতে হচ্ছে তাঁদের। যাত্রীরা যাতে প্রতারিত না হন সে কথা মাথায় রেখেই যাত্রীদের নাম রেজিস্ট্রেশন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।কিন্তু প্রতারণা আটকাতে ঘুরপথে এভাবে তীর্থযাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কেউই সহমত নন, অনেকেই বলছেন এর জেরে তীরযাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন সকলের পক্ষে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশোন তো সম্ভব নয় আর এটা ভীষোন সত্যি কথা, কারণ এই সমস্ত জায়গায় এমন অনেক মানুষ যান যাদের কাছে ন্যূনতম টাকা টূকুও তাকে না শুধু পুন্যর আশায় অনেক কষ্ট করে যাত্রাপথে ভান্ডারার খাবার খেয়ে রাতে কোন একটা জায়গায় কোন রকমে মাথা গুজে তারা ঘুমোণ দিনের বেলা আশড়য় নেন খোলা আকাশেড় নীচে সেই মানুষ গুলোর কাছে টাকা চাওয়ার মত কাজ কি এতটুকুও বিবেকে লাগে না? প্রশ্ন উঠছে। সরকারি বৈঠকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে ৪ ধামের যাত্রীদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতেই হবে। যা করতে হবে টাকা দিয়ে। । যদিও গোটা বিষয়টাই এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়নি। অনুমান, শীঘ্রই তা লাগু করবে সরকার। এদিকে এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধী শিবির। তাঁদের অভিযোগ, মুখে হিন্দুত্বের বুলি আওড়ানো বিজেপি সরকার এবার চারধামকেও ছাড় দিচ্ছে না। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ যাত্রী চারধামে তীর্থ করতে যান। এবার তাঁদের থেকে টাকা উসুল করবে এই সরকার।তাই সব মিলিয়ে বিজেপির হিন্দুত্বের বুলি আওড়ানো যে শুধুই আইওয়াশ তা কিন্তু স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিরোঢীদের মধ্যে এবার দেখার বিষয় এটাই যে চাপের মুখে পড়ে কি এই কর প্রত্যাহারা করবে গেরুয়া শীবির? নাকি নিজেদের মুনাফা যাতে কমে যায় সেই রক্ম কাজ করতেই চায়না তারা? তবে এই সিদ্ধনাতে হিন্দুদের রোষে যে বিজেপি পড়বে তা কিন্তু বলাই যায়।