সিইসি-র বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে বিরোধীরা

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের উপর। বুধবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইসি-কে অপসারণের দাবি জানিয়ে আদালতের নজরদারিতে তদন্তেরও দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এক্স-এ অভিষেক লেখেন, ‘‘সিইসি-কে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে এবং আদালতের নজরদারিতে তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।’’ তাঁর অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কোনও একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকলে তা গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই আঘাত করে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট কি বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে? প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কি পদক্ষেপ করবে?’’

কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া—দুই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে কমিশনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হোক। পাশাপাশি, দেশ জুড়ে SIR প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের সূত্র সেই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, SIR-সহ সব সিদ্ধান্তই দুই নির্বাচন কমিশনার এবং সিইসি-র অনুমোদন নিয়ে সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, আরজেডির মনোজ ঝা, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঞ্জয় রাউতও সিইসি-র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

ডেরেক জানিয়েছেন, পাঁচ মাস আগে ৬০-এর বেশি রাজ্যসভা সাংসদ সিইসি-কে অপসারণের দাবিতে চেয়ারম্যানের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এদিকে কংগ্রেসের দাবি, এপ্রিল মাসে ৭৩ জন বিরোধী রাজ্যসভা সাংসদ একই ধরনের নোটিস দিয়েছিলেন। লোকসভায় জমা দেওয়া আগের একটি প্রস্তাব স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার প্রস্তাব চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন খারিজ করেছিলেন বলে জানানো হয়েছে।