স্মৃতি মান্ধানার (Smriti Mandhana) বিয়েটা কি আদৌ আর হবে ?

যত সময় গড়াচ্ছে তত সামনে আসছে একের পর এক তথ্য, এবার কার্যত নিজের মুখেই যা বললেন পলাশতাতেই বোধহয় স্পষ্ট, এই সম্পর্ক টেকার নয়

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক :  সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মুহূর্তে ট্রেন্ডিং টপিক নিঃসন্দেহে  স্মৃতি এবং পলাশ। বিয়ের ঠিক আগেই বাবার অসুস্থতার জেরে বিয়ে স্থগিত এই অবধি বিষয়টা মেনে নেওয়ার মত ছিল কিন্তু আচমকাই পলাশের অসুস্থতা, সমস্ত ছবি ডিলিট করে দেওয়া এবং ঠিক তার পরেই পলাশের চ্যাট ভাইরাল হওয়া, জানান দেয় এই সম্পর্কের মধ্যে কোথাও না কোথাও ঘুনপোকা বাসা বেধে ফেলেছে আগেই। স্মৃতির বাবা এবং পলাশ দুজনেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে গেলেও তাদের বিয়ে কবে হবে তা নিয়ে কোন ধারণা কারর নেই, এই সম্পর্কের সামনে এখন এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কোন রকম কোন বক্তব্যই আসেনি এখনও স্মৃতির তরফে, নিজেকে এই গসিপ কন্ট্রোভারসি থেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি হয়ত বা নিজেকে সময় দিচ্ছেন, পরিবারের কাছের মানুষের সান্নিধ্যে থাকছেন। পলাশের সঙ্গে বিয়ে ও সম্পর্ক নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে আসেননি স্মৃতি। সম্প্রতি কৌন বনেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানের শুটে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেখানেও অনুপস্থিত তিনি।কিন্তু পলাশ! তিনি তো যা বললেন তা শুনে প্রশ্ন উঠছে আদৌ কি কখনও স্মৃতিকে ভালোবেসেছিলেন পলাশ! নাহলে এমন কথা বলা যায়! ইতিমধ্যেই স্মৃতির ভাই শ্রবণ মান্ধানা ইনস্টাগ্রাম থেকে পলাশকে আনফলো করলেন। শুধু তিনিই নন, স্মৃতির সতীর্থ জেমাইমা রদ্রিগেজ়, রাধা যাদবরা ইতিমধ্যেই নিজেদের সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন পলাশকে। যদিও স্মৃতি এখনও ফলোয়িং তালিকায় রেখে দিয়েছেন পলাশকে। আবার অন্যদিকে জেমাইমা স্মৃতির সত্যিকারের বন্ধুর পরিচয় দিয়েছেন। এই মুহূর্তে স্মৃতি ও তার পরিবারের পাশে থাকতে অস্ট্রেলিয়ায় আর না ফেরাবিবিএলে ব্রিসবেন হিটের হয়ে খেলছিলেন জেমাইমা। তিনটি ম্যাচ খেলার পরেই ভারতে ফিরেছিলেন। আর এই মরসুমে খেলা হবে না তাঁর।র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেমাইমা।

তাঁকে সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই হয়তো এটা জানেন না যে, শোনা যাচ্ছে পলাশের ব্যাপারটা শুধু চ্যাটেই আটকে ছিল না নাকি। স্মৃতি ও পলাশের সঙ্গীত অনুষ্ঠানের নাচের কোরিয়োগ্রাফিও করেছিলেন জনৈক মেরি,  শোনা যাচ্ছে, রিহার্সাল করতে করতেই এই মেরির সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন পলাশ। এমনকি পলাশ নাকি মেরিকে চুমু খেয়ে বসেন! রিহার্সালের সময় অনেকেই পলাশকে মেরির সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখেন। বিয়ের আগের দিন রাতেই এই নিয়ে স্মৃতি মন্ধানার বাবার সঙ্গে নাকি কথা কাটাকাটিও হয়েছিল পলাশের! প্রশ্ন উঠছে, তার জেরেই কি অসুস্থ হয়ে পড়েন স্মৃতির বাবা? আরও একটা বিষয় যে মেরির সঙ্গে চ্যাট ভাইরাল হয়েছে পলাশের তিনি নাকি কোরিওগ্রাফার নন। তার সঙ্গে পলাশকে ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখা যায়নি তবে এই চ্যাটের সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন  চ্যাটের স্ক্রিনশট তিনি ছড়িয়েছিলেন জুলাই মাস নাগাদ। তখন কেউ নজর করেনি, কারণ পলাশকে কেউ চিনত না। এপ্রিল-মে মাস নাগাদ পলাশের সঙ্গে তার এই কথোপকথন হয়েছে। কিন্তু দুজনের কোনওদিন দেখা হয়নি। সেই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোরিওগ্রাফার নন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় পলাশকে দেখা যায়নি। যেহেতু ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, তাই তিনি সবকিছু স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলাম। পলাশের চরিত্র নিয়ে যেভাবে নেটদুনিয়ায় কাটাছেঁড়া চলছে, সেটায় খানিকটা সিলমোহর দিয়ে দিয়েছেন মেরি, চ্যাট স্ক্রিনশটের সত্যতা প্রকাশ করে। অর্থাৎ তার এই কথা সত্যি হলে এটা প্রমাণিত হবে যে পলাশ শুধু একজন নয় একধিক মহিলার সঙ্গে আসক্ত ছিলেন তাও সেটা আবার স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই। স্মৃতির বাবা অসুস্থ হওয়ার পরেই হাসপাতালে ভরতি হতে হয় পলাশকেও।  প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছাড়া পান তিনি। এর পরেই সন্ধ্যা নাগাদ পলাশের দিদি পলক মুচ্ছল নিশ্চিত করেন যে স্মৃতির সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের বিয়ে আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তারপরেই স্মৃতির বাড়ি থেকে ফিরে আসেন সকলে, প্রশ্ন উঠছিল তখন থেকেই আর তার পর যেন দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে পলাশের সেই চ্যাট যাতে দেখা যায় পলাশ মেরি নামের ওই মহিলার সঙ্গে সাতার কাটতে যেতে চাইছেন শুধু তাই নয় স্মৃতির সঙ্গে এই লং ডিসট্যান্স রিলেশন শিপে যে তিনি খুব একটা ভাল নেই সেই প্রচ্ছন্ন বার্তাও যেন লুকিয়ে ওই চ্যাটে, যে পলাশ স্মৃতির বিশ্বকাপ জয় নিয়ে অত সুন্দর ভাবে উদযাপনের ব্যবস্থা করেছিলেন এক মুহুরতেই যেন সেই পলাশ ভিলেন হয়ে গেলেন, যদিও অনেকেই বলেছেন এই চ্যাট সত্যি নয় এআই ক্রিয়েটেড ফেক ইত্যাদি, কিন্তু একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ যেদিকে যেভাবে এগোচ্ছে তাতে করে এই চ্যাটকে ফেক বলার জায়গা কিন্তু থাকছে না। সমস্ত ঘটনা কিন্তু এটাই বলছে যে স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীনই অন্য নারীদের সঙ্গে চ্যাট করতেন পলাশ।

এমনকি দাবি করেছেন, স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা যন্ত্রণাদায়ক। হ্যায় ঠিকই শুনলেন বিয়ের আগেই পলাশের এই বিস্ফোরক উক্তি কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তবে এই কথা পলাশ সেই মেয়েটিকে প্রথম বলেছিলেন, তেমন নয়। স্মৃতির সঙ্গে বিয়ের মাসখানেক আগে এক সাক্ষাৎকারে জানান। স্মৃতির সঙ্গে তাঁর ‘লং ডিসট্যান্স’ সম্পর্ক। সে জন্য চার-পাঁচ মাস দেখা হয় না তাঁদের। এ ছাড়াও যখন স্মৃতির কাজ থাকে, তখন তিনি ব্যস্ত থাকেন। আবার উল্টোটা ঘটে। যার ফলে বেশ যন্ত্রণাদায়ক এই সম্পর্ক। ২০১৯ সাল থেকে আজ ২০২৫ সাল, ছয় বছর ধরে পলাশের সঙ্গে কতই না মধুর স্মৃতি রয়েছে স্মৃতির, সব ঠিক থাকলে এই মুহূর্তে ইনস্টাগ্রাম থেকে শুরু করে সব জায়গায় ভাইরাল হত তাদের বিয়ের ছবি ভিডিও, কিন্তু সেই সব আনন্দই এক নিমেষে বদলে গেছে বিষাদে, কাপল গোল হ্যাশট্যাগ পাওয়ার কথা ছিল যে সম্পর্কের তা এখন কার্যত ব্রেকআপের দোরগোড়ায়। প্রশ্ন উঠছে বর্তমান সময়ে ভালোবাসার ভিত্তি এত নড়বড়ে কেন? ব্রেড ক্রাম্বিং সিচুয়েশনশিপ ঘোস্টিং ইত্যাদি রিলেশনশিপ স্টেটাস যত প্রাধান্য দিচ্ছে জেন জিরা তত কি মূল্য কমছে ভালোবাসার? এক সম্পর্কে থেকে অন্য সম্পর্কে যাওয়া যাচ্ছে খুব সহজেই? জানা নেই স্মৃতি ঠিক কি সিদ্ধান্ত নেবেন? পলাশের বিরুদ্ধে প্রতারণার এই অভিযোগই বা সত্যি কিনা? তবু সময় সব ঠিক করে দেবে হয়ত বা এই আশা নিয়েই এই মুহূর্তে অন্তরালে রয়েছেন স্মৃতি।