মেঘালয় হাইকোর্টে হলফনামা তলব।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জটিল কাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়োগে চাকরি হারানো ২৪৬ জন শিক্ষকের ফেরত চাকরির প্রশ্নে মেঘালয় সরকারকে হলফনামা জমা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ দিয়েছে।
২০১০ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫২১ শূন্যপদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিরেক্টর এলিমেন্টারি অব মাস এডুকেশন। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১০-এ মেধা তালিকা প্রকাশিত হলেও চার বছর পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪-এ ২৪৬ জন শিক্ষক চাকরি হারান। অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে, কিছু প্রার্থীর নম্বর বেআইনিভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সরকারের পছন্দসিদ্ধ প্রার্থীরা নিয়োগ পেয়েছেন।
মেঘালয় হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পুরো নিয়োগ বাতিল করে দেন। কিন্তু চাকরি হারানো শিক্ষকরা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন। সেই বেঞ্চ যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক করার পাশাপাশি সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
সিবিআই ও উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তদন্তে রিপোর্টে জানায়, ২৪৬ জন অযোগ্য। পরবর্তীতে চার্জশিট পেশ করা হয়, তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী ও ডিরেক্টর এলিমেন্টারি মাস এডুকেশনও এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মেঘালয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ, প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, চার্জশিট বাতিল করে। আদালত দেখিয়েছেন, অভিযোগের সঙ্গে কোন প্রমাণ নেই।
মামলার পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী বলেন, “একই নিয়োগে কেউ চাকরি পাচ্ছে আর কেউ হারাচ্ছে, সেটি সংবিধানবিরোধী। চার বছর চাকরি করার পরও তাদের চাকরি চলে যাওয়া অনৈতিক।”
বিচারপতি মেঘালয় সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা কি পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরবর্তী শুনানি তিন সপ্তাহের মধ্যে হবে।
মামলার ফলাফলের দিকে এখন সকলের নজর। যে শিক্ষকরা নিরপরাধভাবে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের ফেরত চাকরির বিষয়টি সরকারের উপর নির্ভর করছে।