যুদ্ধের আবহে সোনার দাম কমবে ?

দ্ধের সঙ্গে সোনার কী সম্পর্ক? এখন সোনা না কিনলে লাভ হবে নাকি অপেক্ষা করা উচিত?

সূচনা পল্যে,সাংবাদিক : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর তার মধ্যেই নতুন রেকর্ড ছুঁতে শুরু করেছে সোনার দাম। সম্প্রতি Jefferies-এর গ্লোবাল হেড অব ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি Christopher Wood এমন এক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যা বাজারে আলোড়ন ফেলেছে। তাঁর দাবি- আগামী ৫ বছরের মধ্যে সোনার দাম পৌঁছে যেতে পারে ১০,০০০ প্রতি আউন্সে। ভারতীয় বাজারে যার মানে দাঁড়াতে পারে- ১০ গ্রাম সোনার দাম ৩ লাখ টাকারও বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হল- কেন এত বাড়তে পারে সোনার দাম? যুদ্ধের সঙ্গে সোনার কী সম্পর্ক? এখন সোনা না কিনলে লাভ হবে নাকি অপেক্ষা করা উচিত?

যুদ্ধ আর বাজারের সম্পর্ক

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউনাইটেড স্টেটস-এর সমর্থনও বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখনই বিশ্বে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে- বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন শেয়ার বাজার থেকে টাকা সরিয়ে নিরাপদ সম্পদের দিকে যায়। আর সেই নিরাপদ সম্পদের তালিকার শীর্ষে থাকে- সোনা,সরকারি বন্ড ও ডলার। এই কারণেই যুদ্ধ শুরু হলেই সাধারণত সোনার দাম বাড়তে দেখা যায়।

বর্তমানে সোনার দাম

বর্তমানে ভারতের বড়ৃ শহরগুলিতে সোনার দাম ইতিমধ্যেই অনেক উঁচুতে। উদাহরণ হিসেবে- কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি সহ বড় শহরগুলিতে।


২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রায়
১ লক্ষ ৭০ হাজার প্রতি ১০ গ্রাম

২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায়
১ লক্ষ ৫৫ হাজার প্রতি ১০ গ্রাম

মানে কয়েক বছর আগের তুলনায় দাম প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

বড় ভবিষ্যদ্বাণী- 10,000 গোল্ড

Christopher Wood তার বিখ্যাত “Greed & Fear” রিপোর্টে বলেছেন- সোনা এখন একটি structural bull market-এ রয়েছে। তার মতে-

আগামী কয়েক বছরে সোনার দাম পৌঁছাতে পারে ৬,৬০০ প্রতি আউন্সে
এবং দীর্ঘমেয়াদে ১০,০০০ প্রতি আউন্সেও যেতে পারে

ভারতীয় বাজারে এর মানে – ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লাখ অতিক্রম করতে পারে। আর চরম ক্ষেত্রে ৩ লাখ পর্যন্তও যেতে পারে।

কেন বাড়ছে সোনার চাহিদা?

সোনার দাম বাড়ার পিছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।

১. Central Bank Buying

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এখন প্রচুর সোনা কিনছে। কারণ তারা ধীরে ধীরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।

২. Geopolitical Tension

যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে মানুষ নিরাপদ সম্পদ খোঁজে। আর সেই নিরাপদ সম্পদ হলো সোনা।

৩. U.S Fiscal Deficit

আমেরিকার ঋণ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন- দীর্ঘমেয়াদে সোনা ডলারের থেকে বেশি নিরাপদ হতে পারে।

৪. Inflation Hedge

ইতিহাস বলছে- মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে সোনার দামও সাধারণত বাড়ে।

তবে কি দাম শুধু বাড়বেই?

এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। Christopher Wood নিজেই বলেছেন- স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে correction আসতে পারে। সম্ভবত আগামী ৬ থেকে ১৮ মাস সোনার দাম কিছুটা স্থির থাকতে পারে বা কমতেও পারে। মানে-


স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকবে
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ট্রেন্ড ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে

এখন সোনা কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন?

বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে- সোনা কখনোই পুরো পোর্টফোলিও হওয়া উচিত নয়। বরং-


মোট বিনিয়োগের ১০–১৫% সোনায় রাখা ভালো
বাকি অংশ শেয়ার, বন্ড ও অন্যান্য সম্পদে

কারণ সোনা মূলত wealth protection asset, এটি দ্রুত আয় করার মাধ্যম নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কেনাকাটা- সব মিলিয়ে সোনার বাজার এখন খুবই শক্তিশালী অবস্থায়। যদি বড় পূর্বাভাস সত্যি হয়- তাহলে আগামী ৫ বছরে সোনার দাম সত্যিই ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই নিজের আর্থিক লক্ষ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি।