আপনি কি আদৌ পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?

মাসে-মাসে সরকারি প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেতে শুরু করেছেন মহিলারা। অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি টাকা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনায় কেউ রয়েছেন ঝুলে। মানে কারোর স্ট্যাটার্স চেক করলে দেখাচ্ছে আন্ডার এনকোয়ারি। চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। আদৌ তিনহাজার করে মাসে মাসে পাবেন কিনা। এমন সময় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এল বিশাল ঘোষণা। বাড়ল ভাতা। আরও ৫০০ টাকা করে ভাতা বাড়াল রাজ্য সরকার। প্রথমেই বলে রাখি তিনটি ক্যাটাগরির উপভোক্তারা পাবেন এই সুবিধা? কে কে পাবেন এই ভাতা? তার জন্য রয়েছে কী কী শর্ত ? এই তিন ক্যাটাগরির মানুষরা যারা, এখনও পর্যন্ত ফর্ম ফিলাপ করে উঠতে পারেননি। তাঁরা কীভাবে করবেন, তাও জেনে নিন ।

মাসে-মাসে সরকারি প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পেতে শুরু করেছেন মহিলারা। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। অনেকের অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি টাকা। তবে, সেই সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অস্থায়ী বাসভবনে বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদাররা। বৈঠকে স্থির হয়, অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বাংলার কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে। তা নিরসন করার দায়িত্ব নিতে হবে এলাকার কর্মীদের ও নেতাদের। তাঁদের গিয়ে বোঝাতে হবে, বহু ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কাজ এখনও চলছে। বেশ কিছু পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। তা মিটে গেলেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। এই সবের মধ্যেই এবার আরও তিনটি বিভাগে ভাতার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্ট করেন। যেখানে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ যে আশা, ভরসা ও বিশ্বাস নিয়ে একটি রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই নতুন সরকারের অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি বা NSAP এবং রাজ্য সরকারের সামাজিক কল্যাণ পেনশন প্রকল্পসমূহের আওতাভুক্ত উপভোক্তাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা ১,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১,৫০০ টাকা করার নির্দেশ জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ জনেরা আরও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে। আগামী অগাস্ট মাস থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। ১লা সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত মাসিক পেনশনের অর্থ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে বলে পোস্টে লেখেন মুখ্যমন্ত্রী। জনগণের কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এই লক্ষ্যেই সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে পোস্টের শেষে লিখতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, তিনটি প্রকল্পের উপভোক্তারা বাড়তি ভাতা পাবেন। তার মধ্যে রয়েছে, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্প, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন প্রকল্প এবং ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্প। প্রতিটি প্রকল্পের উপভোক্তা এখন থেকে প্রতি মাসে বাড়তি ৫০০ টাকা করে পাবেন। এই অর্থ আগের মতোই ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষমরা আরও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবেন এবং তাঁদের জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তবে ব্যাপারটা হল, নতুন করে এই তিন প্রকল্পে আবেদন করা যাচ্ছে কিনা , সেই প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে। বিধবা ভাতা ও বার্ধক্য ভাতার আবেদন প্রথম জনকল্যাণ শিবির-এ করতে পারেননি অনেকেই। তবে আগামীতে যে শিবির হবে সেখানে আবেদনপত্র পাবেন উপভোক্তারা। অর্থাৎ নতুন করে যারা আবেদন করতে চান, তারা নতুন যে জনকল্যাণ শিবির হবে, সেখান থেকে আবেদনের জন্য ফর্ম পাবেন, সেই ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিতে পারবেন। এমনকি আবেদনপত্র পূরণ করতেও সাহায্য করবেন সরকারি কর্মীরাই। তবে এই মুহূর্তে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ নেই সরকারি এই প্রকল্পে। বর্তমানে এই প্রকল্পে অফলাইন এবং অনলাইনে আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই সরকারের তরফে আবেদন নিয়ে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হবে। এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে আবেদনকারীকে। সাধারণ আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম বয়স হতে হবে ষাট বছর। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা বয়স পঞ্চান্ন বছর হলেই আবেদনযোগ্য। এছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। অন্তত টানা দশ বছর তাঁকে রাজ্যে বসবাস করতে হবে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের পাস বইয়ের কপি বা অ্যাটেস্টেড জেরক্স জমা দিতে হবে।