আপনি অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন তো ?

অন্নপূর্ণা ভান্ডার সংক্রান্ত সম্প্রতি প্রকাশিত রাজ্য সরকারের গাইডলাইন কী বলছে জেনে নিন।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ১ জুন থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া। অনলাইন এবং অফলাইন— দু’ভাবেই ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি আধার সংক্রান্ত কর্মীরাও এই কাজে যুক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর পাশে ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। শুভেন্দু জানান, মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের নেতৃত্বে জেলাশাসক, বিডিও, পুর কমিশনার এবং পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৃহৎ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং পঞ্চায়েতভিত্তিক শিবিরের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণের কাজ হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক দিনে সকলে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না। তাড়াহুড়ো করার কোনও দরকার নেই। সকলেই সুযোগ পাবেন।” তাঁর কথায়, আগামী ৯০ দিন ধরে চলবে এই প্রক্রিয়া। যাঁরা ২ জুনের মধ্যে আবেদন সম্পূর্ণ করতে পারবেন, তাঁরা ৩ জুন থেকেই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পেতে শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের সঙ্গে উপভোক্তাদের যুক্ত করাও। শুভেন্দু জানান, ইতিমধ্যেই আয়ুষ্মান ভারতের জন্য নাম নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যকার্ড দেওয়া শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে তত দিন পর্যন্ত রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকবে এবং কেউ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা ওই প্রকল্পের সুবিধা পান। তবে প্রায় ৩০ লক্ষ ‘অযোগ্য’ উপভোক্তা বেআইনি ভাবে সেই সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে নতুন প্রকল্প পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো প্রকল্প চলবে বলেও জানান তিনি।

যোগ্যতার শর্ত হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা আয়কর দেন, সরকারি বা সরকারপোষিত চাকরিতে রয়েছেন কিংবা ‘অভারতীয়’ নাগরিক, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। প্রশাসনের দাবি, বৃহৎ পরিসরে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।