‘ইউনূস আমাকে কি ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!’

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বাংলাদেশের গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের প্রাণ যায়। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে যান

জুলেখা নাসরিন, সংবাদিক : বাংলাদেশের সামনে এখন অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, অনেক বড় লড়াই..বাবার উত্তরাধিকারে তিনি উঠে এসেছিলেন শীর্ষ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের জনপ্রিয়তাকে সঙ্গী পৌঁছে যান ক্ষমতার চূড়ায়। একসময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেত্রী, সেই শেখ হাসিনাই স্বৈরশাসকের তকমা নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন রক্তক্ষয়ী গণ-আন্দোলনে। বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের মাথার ওপর আগে ঝোলেনি মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া। ব্যাতিক্রম দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া মুজীব কন্যা শেখ হাসিনা |

টানা সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসনের পর জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে তাকে পালাতে হয়েছে ভারতে। বাংলাদেশে কোনও রাষ্ট্রনেতাকে আদালতের রায়ে ফাঁসির আসামী হতে হয়নি আগে। হত্যার দায় মাথায় নিয়ে কাউকে বিদেশেও পালাতে হয়নি। এখানেও ব্যাতিক্রম শেখ হাসিনা, হয়তো তিনি মুজীব কন্যা বলেই এত ব্যাতিক্রম তাঁর জন্য. স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে নিজের দেশেই রাজাকারদের গুলিতে ঝাঁজরা হতে হয়েছিল শেখ মুজীবকে, বাবার মতোই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে ফাঁসির সাজা উপহার পেলেন শেখ হাসিনা, খেটেছেন জেলও, ২০০৭ সালে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তখন ক্ষমতায়। ওই বছরের ১৬ জুলাই ভোরে অর্থা ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে, ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ..জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষভাবে তৈরি সাবজেলে। প্রায় ১১ মাস বন্দি থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান হাসিনা..

চার মাস বিচার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে.. ওয়াকারের তাহলে কি হবে.. তারও তো ফাঁসি হওয়া উচিত…আপনাদেরকে আগের ভিডিও-তে জানিয়েছি, শেখ হাসিনা তার সাক্ষাতকারে ওয়াকার নিয়ে ঠিক কি তথ্য দিয়েছেন…সেনাপ্রধান ওয়াকার সম্পর্কে এতদিন জনমানসে যে ধারনা ছিল সেটা একেবারে টেনে ছিঁড়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা…ওয়াকার ঘর শত্রু বিভীষন..শুধুমাত্র ক্ষমতা আর পদের লোভে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছেন..বাধ্য করেছেন তাঁকে পদত্যাগ করতে..সিআইএ-এর চর হিসাবে কাজ করেছেন তিনি…২০২৪ এর ৪ ঠা অগাস্ট গভীর রাত পর্যন্ত গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরে, তিনি সেই তথ্য অন্য রাজনৈতিক দলকে পাচার করেছেন..২০২৪-এ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন, তাঁকে না জানিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওয়াকার, যা দেশবিরোধী…৫ অগাস্ট যদি তিনি ঢাকায় ঢোকার একাধিক পয়েন্ট থেকে সেনা না প্রত্যাহার করে নিতেন তাহলে, তাহলে তো উত্তেজিত জনতা গণভবনে হামলা করতে পারত না… এই এতগুলি অপরাধের জন্য ওয়াকারের কোনও শাস্তি হবে না ? শেখ হাসিনা যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে থাকেন,,তাহলে জনতাকে উসকে দিয়ে ওয়াকারও অপরাধী…তাকেও তো বিচারের আওতায় নিয়ে এসে সাজা দেওয়া উচিত…

ওয়াকারের কেশ পর্যন্ত স্পর্শ করল না কেউ..ওয়াকার দিব্যি গায়ে হওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন..আর বলছেন বাংলাদেশের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ।

এমনিতে ওয়াকার খুব চাপে রয়েছেন এটা সেটা স্পষ্ট..বিভিন্ন মহল দাবি করছে ওয়াকার জামাত আর ইউনুসের লোক,,সেই কারনে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে ওয়াকার জামাতের নাম একেবারে প্রথমে নিয়েছিলেন..একাধিক ইস্যুতে ওয়াকারের সঙ্গে ইউনুসের মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে..কিন্তু ওয়াকাকের কোনও শাস্তি না হওয়া এটা প্রমাণ করে, ওয়াকার-ইউনুসের মতবিরোধ লোক দেখানো..তলে তলে সব ঠিক আছে দুই জনের….কিন্তু শেখ হাসিনা তাঁর সাক্ষাতকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াকার ঠিক কতটা বেইমান…

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বাংলাদেশের গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের প্রাণ যায়। শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর ফাঁসির সাজা শুনে মুজীব কন্যার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ইউনূস আমাকে কি ফাঁসি দিবে? আমি অরে ফাঁসি দিব!’ আল্লা আমারে এমনি এমনি বাঁচিয়ে রাখেননি। গ্রেনেড হামলাতেও আমার প্রাণ যায়নি!

তবে, ১৭ নভেম্বরের রায় মোটামুটি ওলটপালট করে দিয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে তসলিমা নাসরিন, লেখেন, যে কাজকে হাসিনার সরকারের অন্যায় বলা হচ্ছে, ইউনূস সরকার এবং তার জিহাদি বাহিনী একই কাজ করেও নিজেদের ‘ন্যায়’ ঘোষণা করছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘যখন কেউ ধ্বংসাত্মক কাজ করে এবং সরকার গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়, তখন সরকার নিজেকে অপরাধী বলে না। তাহলে গত জুলাইয়ে নাশকতা দমন করতে হাসিনার দেওয়া নির্দেশে তাঁকে অপরাধী বলা হচ্ছে কেন? ইউনুসের রাজত্বেই যত অপকর্ম বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়েছে এবং সমস্ত ছাত্রদের এক প্রকার লেলিয়ে দিয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে পূর্ব পরিকল্পিত চক্রান্তই ছিল ইউনুসের আসল কারসারি…শেখ হাসিনা নয়,ওয়াকার আর ইউনুসই বাংলাদেশে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মূল কারিগর…