দিল্লিতে আবারও বাসের মধ্যে গণধর্ষণের অভিযোগ

দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজধানীতে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে চিকিৎসক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছিল গোটা দেশ। ঘটনায় ৪ অভিযুক্তর ফাঁসি হয়েছিল। তারপর ঠান্ডা হয়েছিল প্রতিবাদের আগুন। কিন্তু তারপরও যে অপরাধপ্রবণতা কমেনি, তা বলাই বাহুল্য। সেজন্যই তো আবারও একইরম ঘৃণ্য অভিযোগ উঠল রাজধানী দিল্লির বুকে।

ফের নারকীয় গণধর্ষণের অভিযোগ। চলন্ত নয়, এ বার দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্লিপার বাসের ভিতরেই এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল বাসচালক ও খালাসির বিরুদ্ধে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজধানীতে। বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ বিজেপি সরকার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ৩০ বছরের এক মহিলা। তিনি পিতমপুরার একটি বস্তি এলাকায় থাকেন এবং মঙ্গলপুরীর একটি কারখানায় কাজ করেন। সোমবার রাতের মতোই কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। অভিযোগ, সরস্বতী বিহারের একটি বাসস্টপে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্লিপার বাসের কাছে গিয়ে সময় জানতে চান তিনি। সেই সময় বাসের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে বাসের ভিতরে টেনে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, এর পর বাসটি রানি বাগ এলাকা থেকে নাংলোইয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। চলন্ত বাসের ভিতরেই চালক ও খালাসি মিলে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পরে কোনও ভাবে নির্যাতিতা বাড়ি ফিরে ঘটনার কথা জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মেডিক্যাল পরীক্ষার পর এফআইআর দায়ের করা হয়। বুধবার অভিযুক্ত বাসচালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের ব্যবহৃত বাসটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা বিবাহিতা এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন তিনি। তদন্তকারীরা বাসের রুট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্র খতিয়ে দেখছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা তথা প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ সিসোদিয়া (Manish Sisodia) সমাজমাধ্যমে লেখেন, “দিল্লিতে আবার নির্ভয়া-কাণ্ড! মেয়েরা স্কুলে নিরাপদ নয়, বাসেও নিরাপদ নয়।” দিল্লি আপের প্রধান সৌরভ ভরদ্বাজও (Saurabh Bharadwaj) বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, রাজধানীতে মহিলাদের নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে।

২০১২ সালের ‘নির্ভয়া’ গণধর্ষণ-কাণ্ডের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় দেশকে। সেই ঘটনার পর কঠোর আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, ফের একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দিল্লিতে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে।