নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিলে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

“যারা নারীদের অধিকারের বিরোধিতা করেছে, তাদের মহিলারা ভোলেননি।”- নারী সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি বহুদিনের। অতীতে একাধিক বার এই বিল সংসদে উঠলেও নানা কারণে তা কার্যকর হয়নি। এবার সেই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের দিকে এগোতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে বিরোধীদের একাংশের দাবি, বিলটি কার্যকর করতে দেরি হচ্ছে এবং এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এহেন বিরোধীদের এবার কড়া জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা, “যারা নারীদের অধিকারের বিরোধিতা করেছে, তাদের মহিলারা ভোলেননি।”

তাঁর কথায়, “নারী শক্তি আজ দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই বিল শুধুমাত্র একটি আইনগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি সামাজিক বার্তাও বহন করছে। তিনি বলেন, “যে সমস্ত রাজনৈতিক দল বা নেতা এই বিলের বিরোধিতা করছেন, তাদের অবস্থান দেশের নারী সমাজ ভালো করেই লক্ষ্য করছে। সময় এলে তার জবাবও দেবে।” তাঁর মতে, এই বিল পাশ হলে সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে, যা নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাবে।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি কোনও দলীয় বিষয় নয়, এটি দেশের নারীদের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্ন। তাই সব দলকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই বিলকে সমর্থন করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “যারা আজও এই বিল নিয়ে দ্বিধা বা আপত্তি জানাচ্ছেন, তারা আসলে নারী উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যেন কোনও ভ্রান্ত ধারণায় না থাকি যে আমরা নারীদের কিছু দিচ্ছি। এটি তাঁদের অধিকার, যা বহু দশক ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। আজ সেই ‘পাপ’ থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ এসেছে।” একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, এই বিষয়টিকে দলীয় রাজনীতির পাল্লায় না মাপাই শ্রেয়।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, লোকসভার আসনসংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বাধিক ৮৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য ৮১৫টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য সর্বাধিক ৩৫টি আসন রাখা হতে পারে। সরকারের দাবি, এই বৃদ্ধি হলে বিদ্যমান আসন কমানো ছাড়াই নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব হবে।

তবে এই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের ঘোর আপত্তি। তাঁদের আশঙ্কা, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির রাজ্যগুলি সুবিধা পাবে, ফলে ফেডারেল ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি জাতি-ভিত্তিক জনগণনার তথ্য ব্যবহার না করলে ওবিসি, দলিত ও আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও দাবি বিরোধীদের।

সব মিলিয়ে, নারী সংরক্ষণ বিলকে ঘিরে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে চাপানউতোরের আবহে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ নতুন করে রাজনৈতিক তরজাকে উসকে দিল।