এসআইআরের বিরুদ্ধে মূলত সিজেপি এবং ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনে পথে নামছে তরুণ প্রজন্ম। এবার তাদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল দিল্লি পুলিশ। তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা বাড়তেই প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভের নামে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ধাক্কাধাক্কি, এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটছে। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সৃষ্টি পাণ্ডে বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘‘কোনও ধরনের ভুল প্রভাব তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে চালিত করছে।’’
ডিসিপির বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীকে গালিগালাজ করা, হাত তোলা, আঁচড়ানো বা কামড়ে দেওয়া কোনও ভাবেই সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় না। তাঁর আবেদন, বেআইনি কোনও পদক্ষেপ করার আগে আন্দোলনকারীরা যেন তার দীর্ঘমেয়াদি এবং আইনি পরিণতির কথা ভাবেন। পুলিশ যে সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে, সেই দাবিও করেন তিনি।
একই সঙ্গে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্মিত ছবি ও ভিডিয়ো নিয়েও সতর্ক করেছেন সৃষ্টি পাণ্ডে। তাঁর কথায়, দিল্লিতে উপস্থিত না থেকেও কেউ দূরে বসে ভুয়ো ছবি বা ভিডিয়ো তৈরি করে জনমত প্রভাবিত করতে পারে। তাই কোনও খবর যাচাই না করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের সরকারি সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়।
আগামী ১০ অক্টোবর CJP-এর প্রস্তাবিত কর্মসূচির আগে আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সৃষ্টি পাণ্ডে জানিয়েছেন, রাজধানীতে বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। ফলে যন্তর মন্তর-সহ কোথাও জমায়েত বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই। কোনও জমায়েত হলে তা বেআইনি হিসাবে গণ্য করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
বুধবারের বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। কনস্টেবল অঙ্কিত কাসানা দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধীকে আটক করার সময় প্রায় ৩০-৩৫ জন তাঁকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ, ইউনিফর্ম ছেঁড়া, আঁচড়ানো এবং কামড়ানোর মতো ঘটনা ঘটান। পরে তাঁকে আরএমএল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিনটি এফআইআর হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ দিকে SIR নিয়ে বিতর্কের আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের Z+ নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করেছে CISF। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ঘোষণা করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গান্ধী স্মারকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসবেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। মঙ্গলবার নির্বাচন সদন অভিযান এবং বুধবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পর এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলনে নামছে বিরোধীরা।