বাংলাদেশের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান হল সোমবার। বিদায়ী ভাষণেও বিতর্ক সঙ্গী হল মহম্মদ ইউনুসের ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ইতিহাসে মহম্মদ ইউনুস বহুল আলোচিত নাম। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর বক্তব্য শুধু একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। বরং তা ছিল রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা। দেশের গণতন্ত্র, নির্বাচন, অর্থনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে তিনি কী বললেন, সেই বার্তাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিদায়ী ভাষণেও বিতর্ক সঙ্গী হল মহম্মদ ইউনুসের । বাংলাদেশের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবসান হল সোমবার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ওপার বাংলার নতুন সরকারের যাত্রা শুরুর আগে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা করলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস । সেই সময়েই বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের দিশা দেখাতে গিয়ে টেনে আনলেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কথা।
বাংলাদেশের জাতীয় ভোটে বিএনপি-র বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হলেন তারেক রহমান। সেই মতো মেয়াদ শেষ হয়েছে সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। দেশের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র ফেরাতে ব্যর্থতা এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর লাগাতার হামলার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েই শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নেন মহম্মদ ইউনুস। তবে বিদায়বেলায় নিজের ১৮ মাসের মেয়াদের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা স্বীকারের বদলে বেছে নেন কড়া জাতীয়তাবাদী ও ভূ-রাজনৈতিক উসকানির পথ। বিদায়বেলায় জাতীয়তাবাদী বক্তব্যে পরিপূর্ণ ২৫ মিনিটের ভাষণে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স-এর উল্লেখ করেন নোবেলজয়ী ইউনুস। ভারতের থেকে পৃথক ভাবে উল্লেখ করেন এই সাত রাজ্যের কথা। ভারতের উত্তর-পূর্বকে নেপাল, ভুটানের সঙ্গে একত্রীকরণ করার কথা বলেন তিনি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ইউনুসের ভাষণে ছিল চরম উদাসীনতা।
গত মার্চে ইউনুস চিন সফরের সময়েও ভারতের উত্তর-পূর্ব নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মহম্মদ ইউনুস। সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্যের ভিডিয়োতে, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে বলতে শোনা যায়, ভারতের উত্তর পূর্বে যে সাতটি রাজ্য রয়েছে, যাকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়, তার সবটাই স্থলে ঘেরা, ফলে ওই এলাকায় চিনা বাণিজ্যের প্রসারের ক্ষেত্রে জলভাগের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশই। আর এবার বিদায়ী ভাষণে ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজের দেশকে স্থাপনের চেষ্টা করেন বাংলাদেশের বিদায়ী অন্তর্বর্তী প্রধান। মন্দিরে ভাঙচুর, হিন্দুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা এবং উগ্রপন্থীদের দাপট রুখতে তাঁর সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি এই নোবেলজয়ী। তবে নিজের ঢাক পেটাতে ভুললেন না তিনি।
সমালোচকদের মতে, দেশের মাটিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে না পেরে, বিদায়লগ্নে ভারত-বিদ্বেষী কার্ড খেলে নিজের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করেন মহম্মদ ইউনুস।