গোপনে পট পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনুস। দেশের মানুষ গোল্লায় যাক, পদই ইউনুসের কাছে আগে।
জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : অন্য স্বপ্ন দেখছেন স্বপ্ন দেখছেন মহম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হবেন তিনি। ভোট নিয়ে ব্যস্ত এখন বাংলাদেশ। কিন্তু গোপনে পট পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনুস। দেশের মানুষ গোল্লায় যাক, পদই ইউনুসের কাছে আগে। গত ১৫ মাসে পদের লোভ তিনি পেয়ে গিয়েছেন.রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য ওয়াকারকে দলে টানতে চাইছেন ইউনুস। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন, সেনাপ্রধান ওয়াকারই হাসিনা সরকার পতনের মূল কারিগর। জানিয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খান কামাল। ফলে ওয়াকার যদি এখন ইউনুসের সঙ্গে হাত মেলান তাহলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশের আইনজীবী মহলের একাংশের মতে, আইনসভাকে এড়িয়ে ইউনুস রাষ্ট্রপতি হলে সেটা হবে বেআইনি।

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচন। ভোট যত এগিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি ইতিমধ্যে তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘর গোছাতে ব্যস্ত জামাত, এনসিপি-ও. আওয়ামী লীগও ঠারে ভারে বুঝিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন মিটিং-মিছিলের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা পিছিয়ে নেই। অর্থাৎ ঘর গোছাতে ব্যস্ত সব রাজনৈতিক দল। হাত গুটিয়ে বসে নেই ইউনুসও, তিনিও ঘর গোছাচ্ছেন।অন্তবর্তী সরকারের প্রধানের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। জানা যাচ্ছে, ইউনুস নাকি বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের জন্য রাজি করাচ্ছেন। তাকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন ইউনুস অ্যান্ড কোম্পানি। গত ১৫ মাস ধরে সেই চেষ্টা চলে আসছে.যদি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন ইউনুসের ফাঁদে দিয়ে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন তাহলে ইউনুসের কেল্লাফতে।
ইউনুস মনে মনে যে পরিকল্পনা করছেন, সেটাকে ব্যাখ্যা করলে দাঁড়ায় বিএনপি, জামাত, এনসিপি ও সমস্ত ইসলামপন্থী দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে একটি মিলিঝুলি সরকার গঠন করবেন, আর তিনি হবেন সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি। ৬ নভেম্বর পাবনায় নিজের পৈতৃক বাড়ি যাবেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন.সেখানে তার বাবা-মা-এর সমাধিতে তিনি শ্রদ্ধা জামাবেন। ঢাকার আকাশে-বাতাসে গুঞ্জন সাহাবুদ্দিন হয়তো দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নাহলে কেনই বা তিনি বাবা-মা-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন।
হঠাত ইউনুস কেন রাষ্ট্রপতি হতে চাইছেন.এর পিছনে কি তাহলে কোনও কারন রয়েছে। হ্যাঁ অবশ্যই এর পিছনে কারন রয়েছে। ইউনুস চাইছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পুরোপুরি তার নিজের হাতে নিতে। তাহলে জামাত যে কাজগুলির জন্য তার উপর চাপ বাড়াচ্ছে সেটা তিনি অনায়াশে করে ফেলতে পারবেন. অর্থাত ইউনুস এখন জামাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। ফলে জামাতের সব কথা শোনা সম্ভব হবে, যেটা তিনি এতদিন আংশিক শুনছেন। আবার হাসিনাহীন বাংলাদেশ তো এখন পাকিস্তানের এখন পরম আত্মীয়। একে বারে গলায় গলায় বন্ধু। ফলে পাকিস্তানকে যে প্রতিশ্রুতি ইউনুস দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতিও তিনি অনায়াশে পালন করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি হলে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অতো সোজা নয়। কারণ এমপি-রা ভোট দিয়েই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে পার্লামেন্টই নেই। তাই ইউনুস রাষ্ট্রপতি হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছেন সেটা আপাতত বিশ বাঁও জলে। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন তাহলে সেটা হবে আইন বিরুদ্ধ কাজ। অন্যদিকে বাংলাদেশ সংবিধানে অন্তবর্তী সরকারের পদেরও কোনও উল্লেখ নেই,শুধু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় কাউকে। ফলে ইউনুসের এতদিন ক্ষমতায় থাকাও বেআইনি। ইউনুস এমন একটি সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন যার আইনগত কোনও ভিত্তি নেই. ফলে স্বাভাবিক এই সরকারের গৃহীত সব সিদ্ধান্তই বেআইনি।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে সঙ্গীত শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনুসের অন্তবর্তী সরকার। ইতমধ্যে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু সঙ্গীত শিক্ষকের পদ নয়, থাকছে না শারীরশিক্ষার পদও। বাংলাদেশে এখন কট্ররপন্থীদের দাপাদাপি। নারীদের সন্মান ভূ-লুন্ঠিত. একেবারে মাইকিং করে মেয়েদের বাজারে যাওয়া নিষিদ্ধ করার ছবিও দেখা যায়। কিছুদিন আগে সরকারি স্কুলে মিউজিক টিচার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল কট্টর ইসলামী সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ ছিল স্কুলে নাচ-গানের শিক্ষা ইসলাম বিরোধী। মঙ্গলবার বাংলাদেশে প্রাথমিক ও জনশিক্ষা দফতর একটি সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আর সেই বিজ্ঞপ্তিতে অগাস্টে প্রকাশিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’ – ওই দুটি পদ বাতিল করা হয়েছে। অনেকে এর পিছনে জামাতের উস্কানির কথাও বলছেন।