জারিন খান শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নন, একাধারে এক দায়িত্বশীল স্ত্রী, মা। আবার অন্যদিকে ডিজাইনার, লেখিকা এবং এক অনন্যা নারী।
সূচনা পল্য়ে, সাংবাদিক: বলিউডের স্বর্ণযুগের এক অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন অভিনেতা,পরিচালক সঞ্জয় খানের স্ত্রী, এবং অভিনেতা জায়েদ খান ও সুজান খানের মা- জারিন খান। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন জারিন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষ কিছু দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। শুক্রবার সকালে খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া বলিউড জুড়ে। জারিন খানের মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ তাঁর স্বামী সঞ্জয় খান, সন্তান সুজান, জায়েদ, সিমোন এবং ফারাহ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- এই কঠিন সময়ে তারা গোপনীয়তা চান, যেন মরহুমার প্রতি সম্মান বজায় থাকে। জারিন খান শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী ছিলেন না- তিনি একাধারে ছিলেন দায়িত্বশীল স্ত্রী ও মা। অন্যদিকে ডিজাইনার, লেখিকা এবং এক অনন্যা নারী।

১৯৬০-এর দশকে বলিউডে পা রাখেন তিনি
তেরে ঘর কে সামনে’ এবং ‘এক ফুল দো মালি
এই দুই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি
সেই সময়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়
তরুণ অভিনেতা সঞ্জয় খানের

একটি বাসস্ট্যান্ডে হঠাৎ দেখা- সেখান থেকেই শুরু এক আজীবন ভালোবাসার গল্প। ১৯৬৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা। বিয়ের পর চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের পরিচয় খুঁজে পান নতুন এক জগতে- ইন্টেরিয়র ডিজাইনের দুনিয়ায়। তাঁর নকশায় তৈরি ঘরবাড়ি, অফিস- মুম্বইয়ের সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। এই প্রতিভাই তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়েছেন তাঁর মেয়ে সুজান খানকে, যিনি আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার।
শুধু শিল্প নয়, রান্নাতেও পারদর্শী ছিলেন জারিন
তাঁর লেখা কুকবুক ‘Family Secrets’ আজও জনপ্রিয়
যেখানে পরিবারের প্রিয় রেসিপিগুলি জায়গা পেয়েছে

গত জুলাইয়ে তাঁর ৮১তম জন্মদিন পালন করা হয়। সেই দিনেই মেয়ে সুজান খান শৈশবের ছবি, পরিবারের খুশির মূহুর্ত, আর ভালোবাসার মুহূর্তে ভরা একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। শুক্রবার সকালে জারিন খানের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর থেকে একে একে খান পরিবারে হাজির হন বলিউডের তারকারা। জয়া বচ্চন ও তাঁর মেয়ে শ্বেতা বচ্চন,রানি মুখার্জি,ববি দেওল,শাবানা আজমি, জ্যাকি শ্রফ,রাকুল প্রীত সিং,নীলাম কোঠারি সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন মুম্বইয়ের খান পরিবারের বাসভবনে। সাবেক স্ত্রী সুজান-এর পাশে দাঁড়াতে এসে শোকাহত অবস্থায় দেখা যায় হৃতিক রোশনকেও। জারিন খানের মৃত্যুর সঙ্গে বলিউডের এক নীরব অধ্যায় শেষ হলো। তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল, অথচ নিরহংকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৌন্দর্য শুধু চেহারায় নয় ছিল তাঁর আচরণে, তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসায়, এবং জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে। তাঁকে মনে রাখবেন তাঁর সন্তানরা, তাঁর স্বামী, এবং অসংখ্য বলিউডপ্রেমী যাঁরা আজও বিশ্বাস করেন-‘গ্ল্যামারের আড়ালেও থাকে এক অমলিন মানবিক মুখ। ভালোবাসা, শিল্প আর সৌন্দর্যের উত্তরাধিকার রেখে গেলেন জারিন খান। বিদায়, বলিউডের চিরস্মরণীয় নন্দিনী।