ইউনুসের বাংলাদেশে ফের হিন্দুর প্রাণহানি

Bangladesh hindu murder: দীপুর পর এবার অমৃত মণ্ডল। রাজবাড়ি এলাকায় পিটিয়ে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হল হিন্দু অমৃতের। মান বাঁচাতে তড়িঘড়ি বিবৃতি জারি ইউনুসের।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু দীপুর ওপর যে নির্মম অত্যাচার হয়েছে তা এখন কারোর অজানা নয়। দীপুর পরিবারকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা ভিক্ষা দান করেছেন ইউনুস। ইউনুসের পুলিশ চাইলেই সেদিন দীপুকে রক্ষা করতে পারত, কিন্তু তা না করায় পুলিশের গাফিলতিতেই প্রাণ গিয়েছে দীপুর। এমনকি জানা গিয়েছে পুলিশ যদি সেদিন আরও তাড়াতাড়ি আসত তা হলে হয়তো এত বড় ঘটনা ঘটতই না, এমনকি বাংলাদেশের তরফে এইরকম এই ঘটনার একটা ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দীপুর শেষ ভিডিও বলে যা আদতেও তাঁর নয়। ইউনুস কি ব্যবস্থা নেবেন তার জন্য ?

দীপুর চলে যাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যাতে বলা যায় দীপু ধর্মীয় অবমাননাকর কোনও মন্তব্য করেছেন। এই আবহেই ইউনুসের বাংলাদেশে প্রাণ গেল। আরও এক হিন্দু যুবক অমৃত  মণ্ডলের। অর্থাৎ মহম্মদ ইউনুস আপনি আরও এক হিন্দুর প্রাণ রক্ষা করতে পারলেন না বা হয়তো ইচ্ছে করেই এটা হতে দিলেন না। ঠিক কী ঘটেছিল?  বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে নাকি রয়েছে একাধিক অভিযোগ। অমৃত নাকি তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করত পুলিশের অনুমান।  সেই ক্ষোভ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে সম্রাটের উপর। বুধবার রাতেও নাকি অমৃত তাঁর দলবল নিয়ে তোলবাজিতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় বিবাদ বাঁধে, পালিয়ে যায় সম্রাটের দলবল। তারপরই গণপিটুনি দেওয়া হয় অমৃত ওরফে সম্রাটকে। পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কী ঘটেছিল বুধবার ? বুধবার রাত ১১টা নাগাদ হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকায় শহিদ শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ১০-১২ জন সঙ্গী নিয়ে চড়াও হয়েছিল অমৃত। ২ লক্ষ টাকা দাবি করে তারা। সেই সময়ে শহিদ শেখ সেখানে ছিলেন না। তোলা না পেয়ে শহিদের ছেলেকে মারধর করে তারা। এই সময়ে শহিদ শেখের বাড়ির লোকজন ‘ডাকাত-ডাকাত’ বলে চিৎকার করে ওঠে।  দলবল নিয়ে পালাতে যায় সে। তাদের তাড়া করে গ্রামবাসীরা। হোসেনডাঙ্গা গ্রাম থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসুয়া গ্রামের কাছে অমৃত ও সেলিম নামে তার এক সঙ্গীকে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। শুরু হয় গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অমৃতের। বৃহস্পতিবার রাতে এই প্রসঙ্গে মহম্মদ ইউনুসের প্রেস উইং থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। তাতেও দাবি করা হয়েছে, অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট নাকি চাঁদা নিয়ে জুলুম করছিলেন। সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, নানারকম অপরাধমূলক কাজকর্মে যুক্ত। তার বিরুদ্ধে গত ২০২৩ সালে খুন এবং চাঁদা নিয়ে জুলুম-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নাকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তবে দুষ্কৃতী হলেও বিচার ছাড়াই ‘শাস্তি’ দেওয়া কি ন্যায়?  সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে ইউনুসের তৎপরতা নিয়েও। দীপুর ক্ষেত্রে যা হওয়াটা দরকার ছিল সেটা হয়নি। সেটা অমৃতের ক্ষেত্রে কীভাবে হয়ে গেল? যদি ধরেও নেওয়া যাক অমৃত মণ্ডল দুষ্কৃতী। তাহলেও কি সে বিচারের উর্ধে? তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে আইনের মাধ্যমে বিচার করা যেত না? বাংলাদেশে বারবার মানুষ আইন নিজের হাত তুলে নিতে পারে কার আস্ফালনে? নামটা সবাই জানে, মহম্মদ ইউনুস! দীপুর ক্ষেত্রে ঠিক যেভাবে মুখ পুড়ছে সরকারের সেই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা কি? কারণ দীপুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ঠিক কোন বিপদের মধ্যে রয়েছেন। তারা ঠিক কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেই আবহেই দীপুর যে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে গিয়েছিল। হতেই পারে তাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই ভারতের নামে এই ভিডিওর দোষ চাপানোর জন্য। দীপুর ক্ষেত্রে ঘটনার পর দীপুর বাবার অভিযোগ ছিল যে সরকারের তরফে কোন আশ্বাস দেওয়া হয়নি তারও দিন দুয়েক পর সেই ২৫ হাজার টাকা নিয়ে সরকারের তরফে সরকারি আধিকারিক গিয়েছিলেন দীপুদের বাড়িতে। কিন্তু ইউনুস তো নিজেই বলছেন অমৃত একজন দুষ্কৃতী ছিলেন। তাহলে তার ক্ষেত্রে এই বিবৃতি জারি কেন ? শুধুই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে? তাহলে দীপুর ক্ষেত্রে আপনি এই বিবৃতি জারি কেন করেননি? কেন আপনার পুলিশ দীপুকে রক্ষা করতে পারল না? একটা মানুষের চলে যাওয়ার পরে তার নির্দোষ প্রমাণ হওয়াটা আপনার সরকারের বা আপনার পুলিশের কোন সাফল্যের কাজ নয়। ইউনুসের জারি করা বিবৃতিতে অমৃতের প্রাণহানির কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। সরকারের দাবি, গণপিটুনি আইন বহির্ভূত কাজ। তাই যে বা যারা এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীপু কোনও সন্ত্রাসী কাজবাজ করতেন না। আপনার সোনার বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন। তাহলে তাকে যারা ওইভাবে অত্যাচার করল, তাদের বিরুদ্ধে এরকম বক্তব্য কেন রাখেননি আপনি? আছে উত্তর আপনার কাছে? আপনি বলছেন এই ঘটনা দীপুর মত নয়, যারা এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িকতার রং দিয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  দীপুকে যারা মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অত্যাচার করল তাদের কি হবে? সেখানেও তো সাম্প্রদায়িকতার রঙ লাগান হয়েছিল সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হয়েছিল, তখন? একজন ঘোষিত দুষ্কৃতীর জন্য আপনি যা করতে পারলেন, একজন নাগরিকের জন্য কি তা পারতেন না? বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মৌলবাদীদের আস্ফালন আর সংখ্যালঘুদের ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্রেফ ধর্মাচরণের জন্য আক্রান্ত হতে হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। যার জলজ্যান্ত উদাহরণ দীপু দাস হত্যাকাণ্ড। আর এই ঘটনা নিয়ে কিন্তু শেখ হাসিনাও তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইউনুসকে। শেখ হাসিনা বলছেন, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বাংলাদেশে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে থাকা ইউনুস সরকারের ব্যর্থ নীতি। বাংলাদেশের মানুষ এসব সহ্য করবে না। তাহলে অমৃত মণ্ডলের ঘটনা একটা নতুন বিষয় জানান দিল ইউনুস সম্পর্কে। একজন দুষ্কৃতীর পাশে ইউনুস আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বা স্পষ্টভাবে বললে সংখ্যালঘু হিন্দুর পাশে নেই মহম্মদ ইউনুস।