চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব!

পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্র না ওড়িশা? কোথায়, কখন আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, রইল বড় আপডেট

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর আন্দামান সাগরে ঘনীভূত হওয়া ঘূর্ণাবর্তটি ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়া দফতরের (IMD) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’ (নামটি বাংলাদেশের দেওয়া)।
​ঘূর্ণিঝড়টি কোথায়, কখন এবং কতটা শক্তিতে আঘাত হানতে পারে, তার বিস্তারিত তথ্য।

​১. সম্ভাব্য ল্যান্ডফলের জায়গা (কোথায় আছড়ে পড়বে?)
​প্রধান লক্ষ্যবস্তু (দক্ষিণ ওড়িশা – উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ): আবহাওয়া মডেলগুলির প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওড়িশা (পুরী থেকে গোপালপুরের মাঝখানে) এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ (বিশাখাপত্তনম সংলগ্ন) উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
​পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি: সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে (দিঘা বা সুন্দরবন) এই ঝড়ের আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এখনো কম, তবে কিছু পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন করে এটি ওড়িশা উপকূল পার হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের উপকূল অঞ্চলের দিকেও ঘেঁষে যেতে পারে।
​২. ল্যান্ডফলের সময়কাল (কখন আঘাত হানবে?)
​ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরের সময়: ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি মধ্য ও সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
​আঘাত হানার সময়: সব ঠিক থাকলে ২৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ভোরের মধ্যে উপকূলভাগে স্থলভাগ স্পর্শ (Landfall) করতে পারে।


​৩. ঝড়ের গতিবেগ ও মাত্রা
​ল্যান্ডফলের সময় উপকূলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে, যা সর্বোচ্চ ১২০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
​পশ্চিমবঙ্গে কেমন প্রভাব পড়বে?
​যদিও সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা কম, তবুও বিশালাকার এই নিম্নচাপ ব্যবস্থার প্রভাবে বাংলা জুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা দেবে:
​ভারী বৃষ্টিপাত: আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেল থেকে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে—বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
​কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা: কলকাতায় ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি মেঘলা আকাশ এবং ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ঝড়ো হাওয়ার সাথে দফায় দফায় মাঝারি থেকে এই ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
​উপকূলে সতর্কতা: ২৩ তারিখ থেকেই বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। উত্তর ও মধ্য বঙ্গোপসাগরে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হতে পারে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ৩০-৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।