বৃষ্টির তান্ডবে এক মাসে হিমাচলে মৃত ২৯৮! প্রকাশ্যে ভয়াবহ রিপোর্ট

প্রকৃতির রোষে একেবারে ছারখার হয়ে যাচ্ছে হিমাচল প্রদেশ। গত ১ জুন থেকে ১০ অগস্ট পর্যন্ত হিমাচলে ৫০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্ষার মরসুমে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৫৮টি হড়পা বান, ৩০টি মেঘভাঙা বৃষ্টি, ৫৩টি বড় ধসের কবলে পড়েছে রাজ্য।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- লাগাতার এক মাস ধরে বৃষ্টি চলছে। পুরোপুরি বিধ্বস্ত হিমাচল প্রদেশ। এই এক মাসে হিমাচল জুড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৯৮ জনের। সম্প্রতি বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এমনই এক ভয়াবহ রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে। হিমাচল প্রদেশের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে ধস, হড়পা বান, বাড়ি ভেঙে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ আর ২০ জুন থেকে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও অনেকে ওই দুর্ঘটনার জন্যও পরোক্ষ ভাবে দায়ী ভারী বর্ষণই।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত যে ২৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে তার মধ্যে ১৫২ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে অতি বৃষ্টির জেরে ভূমিধস, হড়পা বান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে হড়পা বানে ভেঙে গিয়েছে ঘরবাড়ি। বাকি ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে গাড়ি দুর্ঘটনায়। এর নেপথ্যেও পরক্ষে রয়েছে অতিবৃষ্টি। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে গাড়ি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত একমাসে এই বৃষ্টির ফলে হিমাচল প্রদেশের পরিকাঠামো ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০০-র বেশি রাস্তা। এর সঙ্গে দুটি জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ৫১টি জায়গায় পানীয় জলের পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

চম্বলে ২৪ টি রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সিমলা, কাংরা সহ বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালিচক, বাঞ্জারের মতো এলাকাগুলি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানীয় জলের পরিষেবার পাশাপাশি লাগাতার বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু জায়গায়।রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, কোথাও যদি বিদ্যুতের তার খোলা অবস্থায় থাকে তবে যেন অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানো হয়।

হিমাচলের বিলাসপুর, হামিরপুর, কাংড়া, কিন্নর, কুল্লু, মাণ্ডি, সিমলা, সোলান, উনা, সিরমোরে সোমবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মাণ্ডি, কুল্লু, উনা, চাম্বা, কাংড়ার সব স্কুল সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। ধস নামার কারণে রবিবারও হিমাচলের দু’টি জাতীয় সড়ক-সহ ৪৮২টি সড়ক বন্ধ ছিল। তার মধ্যে মাণ্ডিতেই বন্ধ ২৪৫টি সড়ক।