বাড়তি আয়ের মুখ দেখতে আবু ধাবি গিয়েছিলেন তেলঙ্গানার শ্রমিক। আবু ধাবি বিমানবন্দরের কাছে হামলায় আহত হন তিনি।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি দেশ। আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দেশগুলির উপর ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবি বিমানবন্দরের কাছে হামলায় আহত হয়েছেন তেলঙ্গানার এক ভারতীয় শ্রমিক। ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন তাঁর পরিবার ও গ্রামবাসীরা। আহত শ্রমিকের নাম নন্দেল্লি রাজেশ্বর রাও। তিনি তেলঙ্গানার রাজন্না সিরিসিলা জেলার পোথিরেড্ডিপল্লি গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের দাবি, আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মী হিসেবে গত চার বছর ধরে কাজ করছেন রাজেশ্বর। সম্প্রতি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় হওয়া একটি হামলায় তিনি গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সীমিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রাজেশ্বরের বাবা প্রভাকর রাও জানিয়েছেন, ঘটনার পরে একবার ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন তাঁর ছেলে। কিন্তু তখনও তিনি নিজের আঘাত ঠিক কতটা গুরুতর তা স্পষ্ট করে জানাননি।
প্রভাকর বলেন, “আমার ছেলে বিমানবন্দরে কাজ করে। সে জানিয়েছে হামলায় আহত হয়েছে। ভিডিও কলে কথা বলেছিল, কিন্তু শরীরের আঘাত দেখাতে চাইছে না। আমরা খুব চিন্তায় আছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ও যেন দেশে ফিরে আসে, সেটাই চাই।”
পরিবারের দাবি, হামলার সময় বিমানবন্দরের কাছেই কাজ করছিলেন রাজেশ্বর। সেই সময় বিস্ফোরণের আঘাতে তিনি সহ আরও কয়েকজন কর্মী আহত হন। ঘটনার পরে ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের আহত হওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজেশ্বরের ছোট ভাই রামা রাও এই ঘটনার পর আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। তাঁর কথায়, “আমার দাদার নাম রাজেশ্বর রাও। কয়েক দিন আগে আবু ধাবি বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় দাদা গুরুতর আহত হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। গত চার বছর ধরে সে বিমানবন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কাজ করছে। হামলার সময় সে ডিউটিতেই ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফোনে জানানো হয়েছে দাদার অবস্থা খুবই গুরুতর। তাই তেলঙ্গানা সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অনুরোধ করছি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমার দাদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হোক। আমরা চাই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিক।”
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজেশ্বরের গ্রাম পোথিরেড্ডিপল্লিতে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ওই এলাকা থেকে বহু যুবক জীবিকার সন্ধানে গালফের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যান। ফলে এই ঘটনার পরে গ্রামবাসীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে বিদেশে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাজেশ্বরের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য পরিবারও এখন উদ্বিগ্ন—তাঁদের প্রিয়জনেরা বিদেশে কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
পরিবারের আশা, ভারত সরকার ও তেলঙ্গানা প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রাজেশ্বরকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন। গালফ অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।