হরমুজের আকাশে রহস্য!

আচমকা উধাও মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton.

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : যুক্তরাষ্ট্র,ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে ইরান। ফলে বিশ্বজুড়ে তেল সংকটের মুখোমুখি বহু দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির চুক্তি হতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু ইজরায়েল লেবাননে হামলা করার পর থেকে আবারও সংঘাত শুরু। হরমুজ প্রণালী আবার বন্ধ করে দেয়। এই আবহে এবার হরমুজের আকাশ থেকে উধাও হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের দামি এবং অত্যাধুনিক ড্রোন।

মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন এমকিউ-ফোর সি ট্রিটন (MQ-4C Triton) আচমকা উধাও হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা—এটি কি দুর্ঘটনায় ভেঙে পড়েছে, না কি শত্রুপক্ষের হামলার শিকার?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি এ দিন পারস্য উপসাগর (Persian Gulf) এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টার নজরদারি মিশন শেষ করে ইতালির নৌসেনার এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটির (Naval Air Station Sigonella) উদ্দেশে ফিরছিল। সেই সময় আচমকা জরুরি সংকেত—‘৭৭০০’—প্রেরণ করে ড্রোনটি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সূত্রে জানা যায়, সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্রোনটি উচ্চতা দ্রুত হারাতে থাকে এবং রাডার থেকে মিলিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে সেটি ইরানের দিকেই কিছুটা ঘুরে গিয়েছিল বলেও দাবি।

এই ঘটনার তাৎপর্য আরও বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। মাত্র দু’দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা হয়েছিল, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হওয়ার কথা। সেই পরিস্থিতিতেই এমন একটি ঘটনার উদ্ভব নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

MQ-4C Triton ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম আধুনিক সম্পদ। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম এবং প্রায় ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নজরদারি চালাতে পারে। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ ‘চোকপয়েন্ট’-গুলিতে নজর রাখার জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। বহু ক্ষেত্রে এটি P-8A Poseidon বিমানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

এদিকে, চলমান সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের অঙ্কও নজর কাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০,৩০০ ডলার খরচ হচ্ছে এই সংঘাতে। প্রতিদিন গড়ে ৩২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে শুধু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রে। বিমান ও নৌ-অভিযানে খরচ যথাক্রমে ২৪৫ মিলিয়ন ও ১৫৫ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার অপারেশন ও লজিস্টিক খাতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, হরমুজের আকাশে নিখোঁজ এই ড্রোনকে ঘিরে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ঘটনাটি যে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।