Date : 2019-12-11

মুভি রিভিউ- মিশন মঙ্গল…

ওয়েব ডেস্ক: “সায়েন্টিস্ট হয়ে লাভ কি, যদি সেই সায়েন্স দেশের কাজেই না লাগে!” এই উক্তির বক্তা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং একজন বৈজ্ঞানিক আব্দুল কালাম।

নাসার (NASA) কর্তৃত্বে আমরা এতোটাই বিভোর যে মাঝেমধ্যে ভুলে যাই, শুধু নাসাতেই নয়, আমাদের ভারতের সংগঠন ইসরোতেও (ISRO) আছে এমন হাজারও দ্বীপ্তমান বৈজ্ঞনিক যাঁরা নাসার বিজ্ঞানীদের তুলনায় কোনও অংশেই কম নয়।

রাতের আকাশে গায়েব বিমান, খোঁজ মিলল না পৃথিবীর কোনও প্রান্তে…

“If you fail, never give up because F.A.I.L. means First Attempt in Learning”- APJ Abdul Kalam, মতে বিশ্বাসী ইসরোর এক অন্যতম বিজ্ঞানী রাকেশ ধাওয়ান (অক্ষয় কুমার)। ২০১০ সালে ইসরোর প্রথম রকেট সফর শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংস হয় এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। তারই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয় সরকারের। সরকারি তদন্ত কমিশন বসে, সেখানে রাকেশ ধাওয়ানকে দেওযা হয় ইমপসিবল মার্স মিশন অর্থাৎ মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার মিশনের জন্য। নিযুক্ত হয় বেশ কিছু আরও বিজ্ঞানিরা। তবে এই মার্স মিশনকে সফল করে তোলার জন্য অক্ষয় ও তারা শিন্ডে (বিদ্যা বালন) ছাড়া কারোরই তেমন চার নেই। সঙ্গে নেই সরকারের ফান্ডও।

সিনেমা: মিশন মঙ্গল

সময়: ১২৭ মিনিট

রেটিং : ৩.৫/৫

এতো বড় একটা ক্ষতির পর ইসরোর আর ভরসাও নেই অক্ষয় ও তাঁর টিমের প্রতি। সেই কারণেই নাসাতে ২৩ বছর ধরে কাজ করে আসা এক বিজ্ঞানী রুপার্ট দেসাইকেই (দিলীপ তাহিল) দেওয়া হয় এই কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু নাছড়বান্দা অক্ষয় কোনো না কোনোভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে, চন্দ্রায়ন ২ লঞ্চের সময়কে পিছিয়ে, সরকারের তরফ থেকে প্রায় অর্ধেক বাজেটে শুরু করে তোড়জোর। বাকিটা সবারই জানা। Mars Orbiter Mission (MOM), যার অপর নাম ছিল মঙ্গলায়নও (Mangalyaan) পৃথিবীর প্রথম মিশন যা প্রথমবারেই ভারত সফল হয় মঙ্গল গ্রহে পাঠাতে। ২০১৩ সালের ৫ই নভেম্বর যাত্রা শুরু করে মঙ্গলায়ন, এবং মঙ্গলের অরবিটে গিয়ে পৌঁছায় ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৪তে।

“৭ দিনও সময় লাগত না”, আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে বললেন ৯ বছরের বালক….

ছবিতে আসল ছয়টা মেরেছেন বিদ্যা বালন। যথারীতিই ওনার অভিনয় নিয়ে কিছু বলার জায়গাই তিনি কখনই রাখেন না। অক্ষয় কুমারের চরিত্রটিও বেশ মজার। মাঝে মধ্যে সমস্যার জট ছাড়ানোর জন্য তাঁর রসবোধের সঞ্চার বেশ ভালো লাগে। সঙ্গে বাকি অভিনেতারাও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মিশন মঙ্গলের পরতে পরতে দেশ ভক্তিকে গুলিয়ে খাওয়ানোর লাগাতার চেষ্টার শরিক হয়েছেন পরিচালক জাগন শক্তি। তিনি মহিলা কেন্দ্রিক ছবি বানালেও, খুব অদ্ভুতভাবেই শেষ পর্যন্ত কিন্তু অক্ষয় কুমারকেই যেন হিরোর তকমায় ভূষিত করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। কোনো চরিত্রকেই চরিত্র হয়ে ওঠার জায়গাটুকুও দেননি যেন। অনেক সংলাপের মধ্যেই প্রমাণ মিলেছে তথাকথিত “পুরুষ-শাসিত” সমাজের, যেখানে আদতেই মহিলাদের কোনোকিছু চালনা করার ক্ষমতা নেই। একটি গম্ভীর মুহুর্তে সমস্ত বিজ্ঞানীরা মিলে হঠাৎ একটি গানে নাচ শুরু করে দেওয়া, এমন অনেক দৃশ্যই বড়ই বেমানান।

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক জড়ো করে তাতে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ বাঁচান প্রত্যন্ত গ্রামের এই চাষী…

তবে এতকিছুর মাঝে দাঁড়িয়েও গোটা সিনেমা জুড়ে এমন অনেক দৃশ্যই আছে, যা প্রতিটা দেশবাসীর মনেই এক অন্য অনুভূতির সঞ্চার করতে সক্ষম। তবে একটা থটকা থেকেই যাচ্ছে! সিনেমার একদম শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে না দেখালেই কি হত না?