Date : 2019-08-18

রাতের আকাশে গায়েব বিমান, খোঁজ মিলল না পৃথিবীর কোনও প্রান্তে…

ওয়েব ডেস্ক: সময়টা ২০১৪ সাল, যে বছর পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বিমান নিখোঁজের ঘটনা ঘটে গেছে। MH370 নামের বেজিংগামী এই বিমান মালয়েশিয়ান বিমান যার খোঁজ পৃথিবীর কোন সূত্র আজ পর্যন্ত দিতে পারেনি। অনেকেই মনে করেন যাত্রীবাহী এই বিমানটিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কারণে সরিয়ে ফেলেছে কোন দেশ।

এখনও পর্যন্ত বিমান নিখোঁজের সবচেয়ে অভেদ্য রহস্য তৈরি হয়ে রয়েছে MH370কে ঘিরে। সংবাদ সংস্থার খবর অনুসারে ৮ মার্চ ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ার কোয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে রাত ১২টা ৪০ নাগাদ চিনের রাজধানী বেজিং-এর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্লেনটিতে ছিল ১৫টি দেশের ২২৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন বিমান কর্মী। সাড়ে ৫ ঘন্টা সময়ের এই বিমানযাত্রায় ৪০ মিনিট পর মালয়েশিয়ান প্রায়দ্বীপ হয়ে বিমান MH370 মালয়েশিয়ার আকাশপথ ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন : দিল্লির আকাশে রহস্যজনক ছায়ামূর্তি, ধরা পড়ল ক্যামেরায়, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন : ‘আমি টরেড দেশ থেকে এসেছি’, অস্তিত্বহীন দেশের নাম করে অদৃশ্য ব্যক্তি!

এরপর প্লেনটি প্রবেশ করে সাউথ চিন সমুদ্রের উপর। এরপরেই মালয়েশিয়ান রেডারের বাইরে চলে যায় MH370 বিমানটি এবং হঠাৎ-ই মালয়েশিয়ান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রেল রেডার প্লেনটির সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে হইচই পড়ে যায় কোয়ালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। জানানো হয়, প্লেনটির সঙ্গে কিছুতেই আর সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্লেনের কমিউনিকেশন সিসটেম হঠাৎ-ই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেজিং বিমান বন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় কেন সূত্রই নেই প্লেনটি সম্পর্কে তাদের কাছে। কোথায় গেল বিমানটি? কে সরিয়ে ফেলল এতজন যাত্রীকে? মুহুর্তের মধ্যে মালয়েশিয়ান সরকারে হাতে আসে তিনটি অনুমান,

১. প্লেনটি ক্রাশ করেছে।

২. প্লেনটি হাইজ্যাক করা হয়েছে।

৩. আন্তর্জাতি শত্রুতার কারণে কেউ লুকিয়ে রেখেছে বিমানটি।

৪. এলিয়ান।

মুহুর্তের মধ্যেই খবর হয়ে যায় ওই প্লেনের যাত্রীদের পরিবারের কাছে।

আরও পড়ুন : এই কি তবে নরকের দ্বার! ৪০ বছর ধরে এই গর্তেই বাস করছে শয়তান?

প্লেন ক্রাশ তত্ত্ব:-মালয়েশিয়ান বিমান বন্দরের কাছে তারা এই ঘটনার কৈফিয়ৎ চাইলে বিমান সংস্থার তরফে একটি আন্তর্জাতিক সার্চিং টিম তৈরি করে দক্ষিণ চিন সাগরের উপর বিশাল নিখোঁজ অভিযান চালানো হয়। কারণ মালয়েশিয়ার প্রথম সন্দেহ তৈরি হয় প্লেন ক্রাশ করার। প্লেনের মালপত্রের তালিকা ঘেঁটে জানা যায় লিথিয়াম ব্যাটারির কারণে প্লেন ক্রাশ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা ছিল। এই সময়ই মালয়েশিয়ান সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয় বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সম্পর্ক ছিন্ন হলেও শেষ মুহর্তে তাদের রেডারে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ধরা পড়েছিল প্লেনটির গতিবিধি। সেখান থেকেই জানা যায় প্লেনটি তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা না করে থাইল্যান্ডের দিকে পৌঁছে ছিল আন্দামান সাগর পার করে। কিন্তু এর পরে ফের যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায় প্লেনটির। ঘটনাক্রম অনুসারে সার্চিং টিমের নিশানা তখন হয় বঙ্গোপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরের উপর। রহস্যজনক ভাবে সেখানে প্লেনটির কোন হদিশ মেলেনি।

হাইজ্যাক তত্ত্ব:- এরপর মলয়েশিয়ার সরকারে সামনে প্লেনের ধ্বংস হয়ে যাওয়ার তত্ত্ব সরে গিয়ে ক্রমশ ঘনিভূত হতে থাকে হাইজ্যাকিং রহস্য। প্লেনের যাত্রী তালিকা ঘেঁটে জানা যায় ওই বিমানে নকল পাসপোর্ট নিয়ে যাত্রা করছিলেন ২ যাত্রী তারা দুজনে বেজিং-এর মানুষ। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায় এদের সঙ্গে কোন যোগাযোগই ছিল না কোন সন্ত্রাসবাদী সংস্থা বা অন্য কোন দুষ্কৃতকারী সংস্থার সঙ্গে। শুধু এই দুই যাত্রী নয়, প্লেনের সকল যাত্রীর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে কোন তথ্য সামনে আসেনি। এমনকি মালয়োশিয়ান সরকারে তরফে বলা হয় কোন সন্ত্রাসবাদী সংস্থা এই প্লেন হাইজ্যাকিং-এর দায়ভার গ্রহণ করেনি।

অন্তর্জাতিক শত্রুতা তত্ত্ব:- নিউ ইয়ার্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী ওই প্লেনটি হয়তো ৪৫ হাজার ফিট উপরে পৌঁছে গিয়েছিল, এরপর তা সরকারি সমুদ্রে ক্রাশ করে। কিন্তু সেই তত্ত্বও খাটেনি। কারণ সমুদ্রের কোথাও প্লেনটির ধ্বংসাবশেষ বা একটি টুকরোও পাওয়া যায়নি। কিছু তদন্তকারীদের অভিমত, এই প্লেন আসলে এমন কিছু জিনিস নিয়ে বেজিং-এর উদ্দেশ্যে যাত্রী করেছিল যা হয়তো আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কোন আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাই গোটা বিমানটিকে তারা লুকিয়ে রেখেছে আন্ট্রাকটিকায়। কিন্তু এসব জল্পনা উড়িয়ে দেয় স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য। সেখান থেকে জানা যায় প্লেনটি পৃথিবীর সবকিছুর সঙ্গে সম্পর্ক চ্যুত হয়ে যাওয়ার পরেও ৫ ঘন্টা আকাশেই ঘুরে বেরিয়েছিল। আর স্যাটেলাটের মাধ্যমে সিগন্যাল পাঠানোর চেষ্টা করে ছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক ভাবেই এরপর স্যাটেলাইটের সঙ্গেও যোগাযোগ নষ্ট হয়ে যায় বিমানটির। সেখানেও ধরা পড়েনি বিমানটি কোথায় গেল?

এলিয়ান:- এই সব কিছু তত্ত্বের শেষ তত্ত্ব ইঙ্গিত করছে এই বিমানটির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পিছনে কোন তত্ত্বই খাটছে না। এমনকি আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনীর রেডাও ধরতে পারেনি বিমানটির যাত্রাপথ। বিমানের পাইলট যদি ইচ্ছাকৃতই বিমানের যোগাযোগ বন্ধ করে দেবে তো সেটা মিলিটারি রেডারেই বা কি করে ধরা পড়বে। আর স্যাটেলাইট সিগনালই বা পাঠানোর চেষ্টা কেন করবে। সব তত্ত্ব বলছে বিমানটি শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ জারি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল কিন্তু বাকিটা প্রশ্নই থেকে গেছে