Date : 2019-12-16

এমব্যাসি তৈরিতে আমেরিকাকে পিছনে ফেলল চিন

ওয়েব ডেস্ক : রণনৈতিক উপনিবেশ নির্মাণের শর্তে ঋণদান ও নানা ধরনের পার্থিব প্রলোভনের ফাঁদ পাতার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্কের গাজর ঝোলাতে এবার আমেরিকার চাইতে বেশি এমব্যাসি বানিয়ে ফেলল চিন। বিশ্বের নানা দেশ মিলিয়ে আমেরিকার এমব্যাসির সংখ্যা এখন ১৬৮। চিনের এমব্যাসি ১৬৯টি। আমেরিকার কনস্যুলেটের সংখ্যা যেখানে ৮৮, লাল চিনের কনস্যুলেটের সংখ্যা সেখানে ৯৬টি। সমীক্ষা বলে, চিনের মূল ভূমিতে বসবাসকারী চিনাদের প্রায় ৬৬ শতাংশ যেখানে পুনর্জন্ম হলে আর চিনে জন্মাতে চান না, সেখানে ভারতের ৮৮ শতাংশ মানুষ পুনর্জন্ম হলে ভারতেই জন্মাতে চান। এমনকী, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বেশিরভাগেরও ভোট ভারতের মাটিতেই ফের জন্ম নেওয়ার পক্ষে।

আরও পড়ুন :আর্টিজান বেকারির ঘটনায় সাতজনের প্রাণদণ্ড

আরও পড়ুন : খোঁজ মিলল ছোট্টো ‘ডগর’-এর, কুকুরছানার বয়স ১৮ হাজার বছর

এমন যখন মূল চিনের দুর্দশা তখন এত কূটনৈতিক ঘাঁটি বানিয়ে লাল চিনের নেতাদের ফয়দাটা কী, সে কথা চিনারাই ভালো বলতে পারবেন। যদিও মূল চিনের নাগরিকদের কথা বলার কোনও অধিকার নেই। তাঁরা উদয়াস্ত খাটবেন, বেঁচে থাকার মতো খাবার খাবেন এবং বেজিং চাইলে বাঁচবেন কিংবা মরবেন। কিন্তু বেজিং বিরোধী কথা বলতে পারবেন না। তবে হ্যাঁ, এক শ্রেণির সুন্দরী, শিক্ষিতা, লিবারেল রমণী খাটো পোশাক পরে চিনের ঝাঁ চকচকে শহরে শহরে অবশ্যই কথা বলবেন। তাঁরাই ‘মাদাম’। চিনা কমিউনিস্ট পার্টিই তাঁদের জন্ম দিয়েছেন। তাঁদের কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলেই মরতে হবে। এমব্যাসি তৈরিতে চিনের পর আমেরিকা। তার পরে কারা রইল?

আরও পড়ুন : ২৬/১১র হোতারা শাস্তি পেল না কেন, ক্রোধ পম্পিও’র

ফ্রান্স, জাপান এবং রাশিয়া রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে তুরস্ক, রাশিয়ার প্রতিবেশি দেশ। এক সময় রাশিয়ার জার তুরস্ককে বলেছিলেন ‘সিক ম্যান অফ ইউরোপ’। তুর্কি রোগ এখনও তিরোহিত হয়নি। বিকারগ্রস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএসআইএসকে ক্রমাগত তোল্লাই দিয়েছিলেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান রাসিপ তাইয়িপ এরদোগান। কূটনৈতিক ঘাঁটি বানানোয় সপ্তম স্থানে জার্মানি। লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ পর্তুগিজভাষী দেশ ব্রাজিল রয়েছে অষ্টম স্থানে। স্পেন ও ইতালি রয়েছে যথাক্রমে নবম ও দশম স্থানে। আশ্চর্য হলেও সত্যি, এক সময় যে সাম্রাজ্যে সূর্যাস্ত হত না সেই ব্রিটেন রয়েছে একাদশ স্থানে। ভারত রয়েছে ব্রিটেনের পরে, দ্বাদশ স্থানে। গোটা পৃথিবীতে ভারতের এখন ১২৩টি এমব্যাসি এবং ৫৪টি কনস্যুলেট। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হাস্যকরভাবে প্রচার করা হয়, আফগানিস্তানে নাকি ভারতের অগুনতি কনস্যুলেট। কোনও পাকিস্তানি হিসাব বলে ১৭, কোনও হিসাব বলে ২৭, আবার কোনও কোনও হিসাব একলাফে বলে দেয়, আফগানিস্তানে ভারতের ৫৬টি কনস্যুলেট রয়েছে।

বাস্তবে আফগানিস্তানে পাকিস্তানেরও যে কখানা এমব্যাসি আর কনস্যুলেট, ভারতেরও তাই। রাজধানী কাবুলে একটি এমব্যাসি, আর চারটি করে কনস্যুলেট। কনস্যুলেটগুলি চারটি শহরে। হেরাট, জালালাবাদ, মাজার ই শরিফ এবং কান্দাহারে। এমব্যাসি ও কনস্যুলেট বানানোর প্রতিযোগিতায় গোটা পৃথিবীতে ভারতের চাইতে চিন অনেক অনেক আগে থাকলেও ওয়াশিংটনে এমব্যাসির বাইরে আমেরিকায় চিনেরও পাঁচটি কনস্যুলেট, ভারতেরও তাই। ভারতের পাঁচটি কনস্যুলেট রয়েছে আমেরিকার পাঁচ মহানগরে। নিউ ইয়র্ক, সান ফ্রানসিসকো, শিকাগো, হিউস্টন এবং আটলান্টায়। আটলান্টায় চিনের কোনও কনস্যুলেট নেই। তাদের কনস্যুলেট রয়েছে লস এঞ্জেলসে।