Date : 2020-04-08

২০ বছর বাদে ধরা পড়ল লাকড়াওয়ালা

ওয়েব ডেস্ক : দীর্ঘকাল গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের হাতে ধরা পড়ল ইজাজ ইউসুফ লাকড়াওয়ালা। এক সময় ছোটা রাজনের শাগরেদ লাকড়াওয়ালা পরে নিজেই আলাদা গ্যাং তৈরি করেছিল। বুধবার পাটনা রেল স্টেশনের কাছে লাকড়াওয়ালা ধরা পড়ে। ৫০ বছরের লাকড়াওয়ালা-কে অন্তত ২৫টি কেসের সূত্রে মুম্বই পুলিশ খুঁজছিল। এর মধ্যে দুটি খুনের কেস। মাথার উপর জামিন-অযোগ্য ফৌজদারি মামলা ঝোলা অবস্থাতেই ১৯৯৯ সালে লাকড়াওয়ালা উধাও হয়ে যায়। এক সময় মুম্বই গ্যাংল্যান্ডে দাউদ ইব্রাহিমের প্রতিদ্বন্দ্বী ছোটা রাজনের সঙ্গী ছিল ইজাজ লাকড়াওয়ালা। ২০০৮ সাল থেকে সে নিজের মতো অপরাধ জগতে নামে। বিল্ডার, হোটেলিয়ার এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে তোলা আদায়ই ছিল লাকড়াওয়ালার প্রধান কাজ।

বিহার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মাত্র ১৫ মিনিটের অপারেশনে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ ইজাজ ইউসুফ লাকড়াওয়ালাকে তুলে নেয়। সে তখন একটা ট্যাক্সি ধরে পাটনা এয়ারপোর্টের দিকে যাচ্ছিল। নেপাল থেকে সে পাটনার মিঠাপুর বাস টার্মিনাসে পৌঁছায়। সেখান থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে। পুলিশ তক্কে তক্কে ছিল। ফলে, পাকড়াও করতে সময় লাগেনি।

আরও পড়ুন : নিত্যযাত্রীদের সঙ্গে ট্রেনে সওয়ার হনুমান, দেখুন ভিডিও

টাইমস নিউজ নেটওয়ার্ক (টিএনএন) সূত্রে জানা গিয়েছে, ইদানীং নেপালের পোখারায় থাকত লাকড়াওয়ালা। পোখারা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। ভারত-বিরোধী গ্যাংস্টার, জুয়াড়ি, চোরাপাচারকারী ও টেররিস্টদের স্বর্গরাজ্য। পুলিশ জানিয়েছে, বিহার সীমান্ত দিয়ে নেপাল-ভারত যাওয়া-আসা ছিল লাকড়াওয়ালা-র কাছে জলভাত। বিহার-উত্তর প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত অঞ্চলের বেশ কিছু পকেট রাতের বেলা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের (আইটিবিপি) কাছেও আতঙ্কের জায়গা। অনেকটা টেক্সাস-মেক্সিকোর কিছু সীমান্ত এলাকার মতো। পাটনায় বিহার পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) সুশীল মানসিং খোপড়ে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিহারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল মুম্বই পুলিশ। এডিজি খোপড়ে বলেন, “লাকড়াওয়ালার পাটনা পৌঁছানোর ব্যাপারে মুম্বই পুলিশের কাছে সঠিক তথ্য ছিল। কারণ ওরা ওর গতিবিধির উপর বেশ কিছু দিন ধরেই নজর রাখছিল। আমাদের টিম মুম্বই পুলিশের সঙ্গে কোঅপারেট করেছে।”

অবশ্য এডিজি খোপড়ে-র মতে, বিহারে লাকড়াওয়ালার নামে কোনও কেস নেই। যে কারণে বিহার পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাকে আটকও করেনি, জেরাও করেনি। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বিহার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বেশ কিছু গ্রাম গলা নকল করে আর্থিক প্রতারণা বা ফিশিংয়ের মুক্তাঞ্চল। লাকড়াওয়ালা কেসের সঙ্গে এই অপরাধ চক্রীদের কোনও যোগসাজশ আছে কি না, জানা যায়নি।

আরও পড়ুন :পুলিশের খাতায় কলকাতা নিরাপদ, কিন্তু শিশুরা?

মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় বার্ভে জানিয়েছেন, মুম্বই মহানগর ছাড়া মহারাষ্ট্রের আরও দুটি জায়গায় তোলা আদায়ের অভিযোগে লাকড়াওয়ালার নামে পুলিশ কেস রয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেইসব রাজ্যে লাকড়াওয়ালার নামে কোনও কেস আছে কি না, খবর নেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, ফেরার হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে লাকড়াওয়ালা অনায়াসে ভারতে পদার্পণ করছিল। ধরা পড়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও সে ঘন ঘন আসছিলই বা কেন। গত দুই দশক ধরে লাকড়াওয়ালা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। কখনও তাকে দেখা যাচ্ছিল দুবাইতে, কখনও মালয়েশিয়ায়, কখনও তাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে, কখনও কানাডায়, আবার কখনও তাইল্যান্ডের পার্শ্ববর্তী দেশ কম্বোডিয়ায়। জায়গাগুলি নারকোটিক চোরাচালান রুটের মধ্যে পড়ে। অ্যান্টিক পাচার ও ফ্লেশ ট্রেডের রুটেও প্রতিটি জায়গা উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন : বাস দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্ত মোমিনপুর, গাড়িতে আগুন

২০০৩ সালে দাউদের ঘনিষ্ঠ শাগরেদ ছোটা শাকিলের পোষা ঘাতকেরা ব্যাংককে বোবি মার্কেটের বাইরে লাকড়াওয়ালা-কে গুলি করে। তিনটে গুলি লাগে। তবু লাকড়াওয়ালা বেঁচে যায়। কোনও কোনও সূত্র বলছে, মহারাষ্ট্রের কনট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্টে (এমকোকা) লাকড়াওয়ালা-র ভাই আখি এবং মেয়ে শিফা ওরফে সোনিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ইজাজ আর পেরে ওঠেনি। সে হয়তো বুঝেই গিয়েছিল, ধরা তাকে দিতেই হবে।