Date : 2020-01-20

সংবিধানকে অনুভব করুন, খোলা চিঠি নাগরিকদের

ওয়েব ডেস্ক : সরকার সংবিধানের অনুশাসন অনুসারে কাজ করছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের ৭০তম বার্ষিকীর আগে এমনই বার্তা দিলেন ভারতের আটজন বিশিষ্ট নাগরিক। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এস পনাগ এবং ভারতের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি-র নেতৃত্বে ভারতের নাগরিকদের তাঁরা এ ব্যাপারে তলিয়ে ভাবার অনুরোধ করেছেন।

আরও পড়ুন : জেগে উঠেছে ‘তাল’, সতর্কতা ফিলিপিন্সে

তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংবিধান কি নিছক একটা প্রশাসনিক ম্যানুয়াল? যা নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার বৈধতা দিয়েছে? আর, স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ভোগ করার নামে অন্য নাগরিকদের অধিকার খর্ব করার স্পর্ধা দেখাতে বলেছে? সংবিধান কি কেবলমাত্র কালিতে লেখা কোনও পুঁথি, না কি অসংখ্য শহিদের রক্তে লেখা এক পবিত্র গ্রন্থ? স্বাধীনতার জন্য নিবেদিতপ্রাণ সেইসব শহিদ যাঁরা জাতপাত, ধর্ম, আঞ্চলিকতা, গোষ্ঠীতন্ত্র এবং ভাষা, সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে ছিলেন। ভারতের নাগরিকদের উদ্দেশে এক খোলা চিঠিতে চেলামেশ্বর, পনাগ এবং কুরেশির মতো নাগরিকেরা এই প্রশ্নগুলিই তুলেছেন।

আরও পড়ুন : ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে জঙ্গিদের গাইড হয় দাবিন্দার

যখন নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে চারিদিকে প্রতিবাদ এবং সমালোচকেরা বলছেন, এই আইনে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের খাটো করা হচ্ছে এবং সংবিধানকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে ঠিক সেই সময়েই এই খোলা চিঠি দিলেন আট বিশিষ্ট নাগরিক। পরস্পর-বিরোধী মতামতের মধ্যেও মিল খুঁজে পাওয়া গেলে তার উপর যেমন তাঁরা জোর দিতে বলেছেন, তেমনই বোঝাতে চেয়েছেন বিরোধী মত শ্রদ্ধা সহকারে শোনাই গণতন্ত্রের মূল কথা। এটাই গণতন্ত্রের হৃদপিণ্ড। ভারতবাসীর উদ্দেশে তাঁদের আবেদন, জাতির পিতা-র সত্য এবং অহিংসার মূল মন্ত্র সাধারণ জীবনে আমাদের কর্মে প্রাণ জোগাচ্ছে কি না, ভেবে দেখুন।

আরও পড়ুন : মমতা ছাড়াই বিরোধী বৈঠক সারলেন সোনিয়া

‘ভারতীয় সংবিধানের ৭০ বছর: এক উপলব্ধির মুহূর্ত’ শিরোনামে এই খোলা চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ৭০ বছর ধরে সংবিধানের সক্রিয়তা “আমাদের সাংবিধানিক জীবনের সাফল্য অনুভব করার এবং ব্যর্থতাকে ঠিক করার সুযোগ দিয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জে চেলামেশ্বর, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এস পনাগ, প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি ছাড়াও এই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, চলচ্চিত্র পরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন, কন্নড়ি সংগীতজ্ঞ টিএম কৃষ্ণ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুখদেও থোরাট এবং পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্যা সায়েদা হামিদ।