“রাখে হরি মারে কে?”৩রাত উত্তাল সমুদ্রে ভেসে উদ্ধার মৎসজীবী….

ওয়েব ডেস্ক: কথায় আছে “রাখে হরি মারে কে?” সেই কথাই সত্যি প্রমানিত হল। জীবন আর মৃত্যুর মাঝের রাস্তায় পড়েছিলেন তিনি। সঙ্গী ছিল অদম্য সাহস আর ধৈর্য্য। বাঁচার সংকল্প নিয়েছিলেন, বাড়ি ফিরতে হবে তাঁকে। টানা ৩দিন মাঝ সমুদ্রে ভেসে থেকে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মৎসজীবী রবীন্দ্রনাথ দাস। এফ বি নয়ন ট্রলারের মৎসজীবী ছিলেন তিনি। আবহাওয়া দফতরের নিষেধ সত্ত্বেও খারাপ আবহাওয়াতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কাকদ্বীপের মৎসজীবীদের একটি দল। রবিবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দিকে হাঁড়িভাঙার দিকে এগোতেই চারটি ট্রলার ডুবে যায় মাঝ সমুদ্রের বুকে। ৪টি ট্রলারে মোট ৬১ জন মৎসজীবী উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই মাঝ সমুদ্রে বিপদের মধ্যে পড়েন।

এদের মধ্যে ৩১ জনকে পাওয়া গেলেও নিখোঁজ থেকে যান ২৫ জন মৎসজীবী। এই তালিকায় মান ছিল মৎসজীবী রবীন্দ্রনাথ দাসের। ট্রলার ডুবির খবর আসতেই বাংলাদেশ ও ভারত একযোগে নিখোঁজ মৎসজীবীদের তল্লাশি শুরু করে।

আরও পড়ুন:বৃষ্টির জেরে ধস, পাহাড়ে বন্ধ টয় ট্রেন

এদিন খোঁজ করতে করতে বাংলাদেশী ট্রলার এমভি জাওয়াদ সমুদ্রের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকতে দেখেন মৎসজীবী রবীন্দ্রনাথ দাসকে। বুধবার বেলা ১১ টা নাগাদ তাকে জলের উপর ভেসে থাকতে দেখে লাইফ টায়ার ছুঁড়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশের উদ্ধারকারী ট্রলার থেকে। তিনি সেই টায়ার ধরে ক্রমশ এগিয়ে আসেন ট্রলারের দিকে।

এরপরেই এমভি জাওয়াদ থেকে পার্শ্ববর্তী জাহাজ, বাংলাদেশ নেভি ও কোস্টগার্ডকে বার্তা পাঠানো হয়। তবে খারাপ আবহাওয়ায় নেভি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দ্রুত আসতে পারবে না বলে জানান।

আরও পড়ুন: প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, পাহাড়ে ধস, আটকে পর্যটকরা

এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় মৎস্যজীবীর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন এই জাহাজের নাবিকরাই। সমুদ্র থেকে তুলে নেওয়া হয় তাকে। সূত্রের খবর আপাতত বাংলাদেশেই চলছে তাঁর সুশ্রুষা। একটু স্থিতিশীল হলেই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে কাকদ্বীপের নারায়ণপুরে।

https://www.facebook.com/newsrplus/videos/321303775420370/

তাঁর ছবি দেখানো হয় পরিবারকে। তাকে সনাত্ত করেছেন তার পরিবারের লোকজন। তিন রাত্রী দুর্যোগ আর অন্ধকার সমুদ্রের বুকে একা ভেসে থাকার ভয়ানক অভিজ্ঞতা সঙ্গে করে দেশে ফিরবেন মৎসজীবী রবীন্দ্রনাথ দাস।