সঞ্জু সুর, রিপোর্টার : পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একমাত্র গ্রহণযোগ্য মুখ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বললেন লুইজিনহো ফ্যালেইরো।
গোয়ার দুই বারের মুখ্যমন্ত্রী, সদ্য প্রাক্তণ বিধায়ক, চল্লিশ বছর ধরে কংগ্রেস করা ফ্যালেইরোর মতে, এদেশ থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। “উনি একজন স্ট্রীট ফাইটার। ওরা অনেক চেষ্টা করেছিলো দিদি কে পরাস্ত করতে। পারেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করেছেন তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন” তাই তিনি (ফ্যালেইরো) তাঁর বোন (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কে গোয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
কেন কংগ্রেস ছাড়লেন লুইজিনহো ফ্যালেইরো ? এই প্রশ্নের উত্তরে বিষ্ফোরক কথা শোনালেন তিনি। বললেন, 2017 সালে গোয়া বিধানসভার নির্বাচনে সর্বকালীন রেকর্ড করে একক বৃহত্তম দল হিসাবে 17 টা আসন পেয়েছিলো কংগ্রেস। কিন্তু দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্যপালের কাছে মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য যেতে দেয় নি। ফাঁকতালে মাত্র 13 টা আসন পেয়েও বিজেপি অন্য দলের সহযোগিতায় ক্ষমতায় বসে পড়ে। “আমি সাড়ে চার বছর চুপ ছিলাম। মনের মধ্যে অনেক কষ্ট নিয়েই চুপ ছিলাম।” সেই সময় গোয়ায় সরকার গড়তে না পারার জন্য নাম না করে তৎকালীন কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কংগ্রেসের এই প্রাক্তণ সাধারণ সম্পাদক।
তবে ফ্যালেইরো মনে করেন, বিজেপি কে ক্ষমতাচ্যুত করতে বৃহত্তর কংগ্রেস পরিবারকে এক হতে হবে। আর যে পরিবারের ব্যাটন থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। রাহুল গান্ধী বা সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও ফ্যালেইরো মনে করেন পাওয়ার কংগ্রেস (এনসিপি), ওয়াইএসআর কংগ্রেস, ইন্দিরা কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এরা সবাই তো সেই মহাত্মা গান্ধীর কংগ্রেসেরই অংশ। তাই এইসব দল যদি মমতার ছাতার তলায় এক হয়ে লড়াই করতে পারে তাহলে বিজেপিকে হারানো সম্ভব। কলকাতার সাংবাদিক সম্মেলনে তাই তাঁর মন্তব্য “আমাদের একজন একজন নতুন নেতা প্রয়োজন যে সারা দেশকে নতুন দিশা দেখাবে।” আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে সেই নেতা, এটাও ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিলেন গোয়ার এই ভূমিপুত্র।


