শুক্রবার সকালে প্রয়াত হন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক সুবল সোরেন। চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের দাবি,চাকরি চলে যাওয়ায় প্রচন্ড মানসিক চাপে গত ১১ই আগস্ট তাঁর স্ট্রোক হয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা সুবল সোরেনকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় তেমন সাড়া দেননি সুবলবাবু। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: শুক্রবার সকালে প্রয়াত হন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক সুবল সোরেন। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হন সুবল। কয়েকদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি । প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা জানান তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে কলকাতায় আনা হয়। তবে কলকাতায় এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসায় তেমন সাড়া দেননি সুবলবাবু। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগে বাতিল হয়েছে ২০১৬ সালের প্যানেল।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন তিনি। আন্দোলনের অন্যতম ‘মুখ’ হয়ে উঠেছিলেন সুবল সোরেন। প্রতিবাদী শিক্ষক হিসাবে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের আন্দোলনে প্রথম থেকেই সামনের সারিতে দেখা গেছে তাঁকে। আন্দোলনকারীদের দাবি”যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর সাত বছর স্কুলে সম্মানের সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। সেই শিক্ষককেই আগামী মাসে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে এটা তিনি কোনমতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। যার পরিণতিতে কয়েকদিন আগেই তার ব্রেন স্ট্রোক হয়। কলকাতাতে চিকিৎসার জন্য আনা হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। এই পচা-গলা সমাজ ব্যবস্থা একজন শিক্ষককেও সম্মানের সাথে বাঁচতে দিল না। আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে পুনরায় আবেদন করতে চাই যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সসম্মানে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

সুবল সোরেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার বাসিন্দা। কয়েকদিন বছর পঁয়ত্রিশের এই চাকরিহারা শিক্ষক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বাড়িতে। তাঁকে ডেবরার হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানেও তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। শুক্রবার সকালে চাকরিহারা যোগ্য এই শিক্ষক শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানান,”কোন অভিযোগে অভিযুক্তহীন ২০১৬ সালের শিক্ষক(ডেবরা ব্লকের বৌলাসিনী হাই স্কুলের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যোগ্য শিক্ষক) সুবল সোরেন প্রথম থেকেই যোগ্যদের হয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে থেকেছে। চাকরি চলে যাওয়ায় প্রচন্ড মানসিক চাপে গত ১১ই আগস্ট তাঁর স্ট্রোক হয়। ডেবরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। সেখান থেকে কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন। আজ ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রারম্ভিক সময়ে সকাল ৮:১৫ তে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আমরা মনে করি এই মৃত্যুর জন্য প্রধানতম দায়ী এই রাজ্য সরকার। তাদের দুর্নীতির দায় যোগ্য শিক্ষক শিক্ষা কর্মীদের ঘাড়ে করে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে! এর পাশাপাশি যে ব্যবস্থা নির্দোষ ব্যক্তিদের দোষী সাব্যস্ত করে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো তারাও কম দোষী নয়। কোন ঘৃণা, কোন ধিক্কার এঁদের জন্য যথেষ্ট নয়। এই ঘটনার সমস্ত দায় রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। পরিবারের একজনকে চাকরি এবং ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করছি আমরা। পাশাপাশি আমরা আবার দাবি তুলে ধরছি, কোন যোগ্য শিক্ষক শিক্ষাকর্মী যেন চাকরি থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরণের বহু ঘটনার আশঙ্কা করছি আমরা। আর একটাও প্রাণ যাতে না যায় তার জন্য যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই যোগ্যদের পাশে এসে দাঁড়ান।”

চাকরি হারিয়ে একজন যোগ্য শিক্ষকের প্রাণ অকালে চলে যাওয়ার শোকের ছায়া আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের অন্যতম নেতা মেহবুব মণ্ডল বলেন, ‘‘সরকার, বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র চক্রান্ত করে হত্যা করেছে সুবলকে। আজকের স্বাধীনতা দিবসে আমরাই পরাধীন।’’
সুবল সোরেনের মৃত্যু নিয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি-র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, “একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছেলে। অনেক কষ্ট করে, লড়াই করে পড়াশোনা করেছিল। নিজের যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরি পেয়েছিল। সব কষ্ট, সব লড়াই শেষ। অথচ দুর্নীতিবাজরা মাথা উঁচু করে, বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”