আজ জন্মাষ্টমী। আজ শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন। জেনে নিন পুজোর পদ্ধতি।

জন্মাষ্টমী মানেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। বৈষ্ণব মতে যিনি ভগবান বিষ্ণু, তিনিই সাক্ষাৎ শ্রীকৃষ্ণ, তিনিই শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী নারায়ণ। সেই শ্রীকৃষ্ণেরই বাল্যরূপ গোপাল। অনেকেই আবার বাল গোপালও বলে থাকেন। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে তাঁর জন্ম বলে পালিত হয় দিনটি। সব ঘরেই ঘরেই প্রায় এই বালগোপালের পুজো করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে এই পুজোর রীতি রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে পুজো করবেন এই গোপালের।

প্রবীর মুখার্জী, নিজস্ব প্রতিনিধি:- অনেকেই সকাল থেকে উপবাসে থাকেন। তবে শরীরের কারণে বিশেষ করে যাদের সুগার বা ডায়াবেটিক্স রয়েছেন, তাঁরা অবশ্য উপবাসে থাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে ফলমূল বা দুধ খেয়ে অনেকে আবার সাগু খেয়েও সন্ধ্যায় বা রাতের দিকে এই পুজো করে থাকেন। তবে সারাদিন ধরেই মনে মনেই হোক বা গুণগুণ করেই হোক বা কীর্তনের মাধ্যমেই হোক শ্রীকৃষ্ণের নাম করতে পারেন। জপ করতে পারেন মহামন্ত্র। ১৬ নাম ৩২ অক্ষর জপ করুন। বাড়িতে যদি গোপালের মূর্তি থাকে। স্নান করান। গঙ্গার জলে স্নান করাতেই পারেন। অনেকে আবার কাঁচা দুধ, ডাবের জল, মধু, ঘি, দই , চিনি, গঙ্গার জল দিয়েও স্নান করিয়ে থাকেন। এরপর নতুন কাপড় পড়িয়ে দিন গোপালকে। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি নিজে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে ভুলবেন না।
এরপর ফুল নিবেদন করুন। তুলসী শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। অবশ্যই চন্দন সহকারে তুলসী পাতা নিবেদন করুন। মন্ত্র বলতে পারেন..
ঔঁ কৃষ্ণায় ক্লীং,
ক্লীং গোপালায় স্বহা।
ক্লীং কৃষ্ণায় গোবিন্দায় ক্লীং।
দধিভক্ষণায় স্বহা।
সুপ্রসন্নাত্ময় নমঃ।
ক্লীং গ্লৌং ক্লীং শ্যামলঙ্গানায় স্বহা।
বালবপুষে ক্লীং কৃষ্ণায় স্বহা।
গায়ত্রী–ঔঁ কৃষ্ণায় বিদ্মহে দামোদরায় ধীমহি তন্নো বিষ্ণু প্রচোদয়াৎ ঔঁ।
তবে তার আগে অবশ্যই ঔঁ বিষ্ণু বলে আচমন করে জলশুদ্ধ করবেন।
ঔঁ গঙ্গে চ যমুনা চৈব গদাবরী সরস্বতী, নর্মদে সিন্ধু কাবেরীং জলস্মিনিং সন্নিদ্ধিং কুরু।

এবার সূর্যকে অর্ঘ্য নিবেদন করে সূর্য প্রণাম করে নেবেন।
ব্রাহ্মণে রা গায়ত্রী জপ করবেন। যারা ব্রাহ্মণ নয়, তাঁরা ঔঁ না বলে নমঃ বলবেন। ভক্তিভরে সাদা ফুল দিয়ে গোপালের পায়ে অর্পণ করুন। ভোগে নানা মিষ্টি দিতে পারেন। বাড়িতে তৈরি নাড়ু দিতে পারেন। তালের লুচি খুব প্রিয়। তালের বড়াও দিতে পারেন। মালপোয়া। এই সময়ে বাজারে পাওয়া যায়। রেডিমেড সব জিনিষই দিতে পারেন। বাড়িতে তৈরি লুচি তরকারি ভাজা সহযোগে ভোগ নিবেদন করতে পারেন। বাড়িতে দুধ দিয়ে ক্ষিরও তৈরি করে দিতে পারেন। অবশ্যই তুলসী পাতা দিতে ভুলবেন না। কারণ তুলসী পাতা ছাড়া তিনি কোনও কিছুই গ্রহণ করেন না। হরে কৃষ্ণ।