দ্য বেঙ্গল ফাইলসঃ ট্রেলার লঞ্চে বাধা কলকাতার হোটেলে। অভিযোগ পরিচালকের

বিবেক অগ্নিহোত্রীর দ্য বেঙ্গল ফাইলসের ট্রেলার লঞ্চকে কেন্দ্র করে কলকাতায় চূড়ান্ত উত্তেজনা। এক বিলাস বহুল হোটেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায় এখানে অনুষ্ঠান হবে না।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ শুক্রবার কলকাতার একটি সিনেমা হলে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমার ট্রেলার লঞ্চের পরিকল্পনা করেছিলেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী। সব ঠিক থাকলেও এদিন ট্রেলার চলাকালীনই আচমকা বেঁকে বসে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বিবেকের দাবি, তিনি স্টেজে থাকাকালীন হোটেল কর্তৃপক্ষ এসে বলে, এখানে ট্রেলার লঞ্চ করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, এর পেছনেও রাজ্য সরকারের চাপ রয়েছে। যে কারণে এই চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চে পরিচালক জানিয়েছেন, তাঁকে বলা হয়েছে কোনও এক ‘শক্তি’র তরফে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর আগে মাল্টিপ্লেক্সে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। পরিচালকের দাবি, সেখানেও রাজনৈতিক বাধার কারণে তা করা যায়নি। অনুষ্ঠানের জায়গা পরিবর্তিত হয়ে ঠিক হয় পাঁচতারা হোটেলে। কিন্তু সেখানেও শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসল কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকাল থেকেই হোটেল চত্বর ছয়লাপ ছিল পুলিশে পুলিশে। শোনা যাচ্ছিল কিছু একটা ঝামেলা হতে পারে আঁচ করতে পেরেই নাকি নিরাপত্তা আঁটসাঁট করেছে রাজ্য প্রশাসন। যদিও বিবেকের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এদিন তখন স্টেজে ট্রেলার চলছিল, আর তখনই হঠাৎ তার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। ট্রেলার চলতে চলতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন কিছুই করা হয়নি, কেবল কথা বলতে গিয়েছিল তারা। কলকাতা কর্পোরেশনের অনুমতি নেই বলেও জানিয়েছে এই পাঁচতারা হোটেল।

এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বিবেক। তিনি বলেন, “আমরা তো চোর-ডাকাত নই। ছবি বানাই। সত্যজিৎ রায়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, ভাবিনি। এটা যদি একনায়কতন্ত্র না হয় তা হলে কী? এটা যদি ফ্যাসিজম না হয়, তা হলে এটা কী?”

বিবেক অগ্নিহোত্রীর অভিযোগ নিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বিবেক অগ্নিহোত্রী আসলে নাটক করছেন। তার সিনেমা সবসময় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে থাকে”। গুজরাট ফাইলস, ইউপি ফাইলস নিয়ে কাজ করেননি কেন বিবেক, প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। বিজেপির হয়ে বাংলায় এসে বাংলাকে কলুষিত করতে চাইছেন বিবেক, সাফ জানান কুণাল। আরও বলেন, “এঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে বার করে দেওয়া উচিত। উনি সত্যজিৎ রায়ের কথা বলেছেন শুনলাম, সত্যজিৎ রায়ের বাংলা বলেই এখনও দাঁড়িয়ে আছেন”।

উল্লেখ্য, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ সিনেমায় বিবেক তুলে ধরবেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলার রাজনৈতিক স্বৈরাচারের কাহিনি। তবে এই ছবিটি যাতে এই রাজ্যে প্রদর্শিত না হয়, তার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বিবেক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছবি তৈরি করে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তিতে আঘাত করতে চাইছেন, এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এই ছবি মুক্তি পাবে।