আলাস্কার বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে তেমন কোন সিদ্ধান্ত হল না। যার নেপথ্যে রয়েছে পুতিনের প্রস্তাব, যে প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছে ইউক্রেন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- যুদ্ধবিরতিতে যাবে রাশিয়া কিন্তু শান্তির শর্তে ইউক্রেনকে পুরো ডনেৎস্ক অঞ্চল রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকের পর পুতিনের এই প্রস্তাব জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও স্পষ্টভাষায় সে প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন জেলেনস্কি।

জানা গিয়েছে যে আলাস্কা শীর্ষ সম্মেলনে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিন বছরের যুদ্ধের অবসানের শর্ত হিসেবে ইউক্রেনের ডনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাতের ‘মূল কারণগুলি সমাধানের’ জন্য মূল দাবি থেকে পিছু হটবেন না। মধ্যস্থতাকারী ট্রাম্পকে পুতিন জানিয়েছেন, ওই দু’টি অঞ্চল রাশিয়া পেয়ে গেলেই রাশিয়ান সেনাবাহিনী নিজেদের এগোনো বন্ধ করবে। ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝিয়া থেকে ফ্রন্টলাইন প্রত্যাহার করে নেবেন পুতিন। ট্রাম্প এই প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করে দিয়েছেন জেলেনস্কি। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকেই রাশিয়া ইউক্রেনের এই অংশের উপরে নিজেদের দাবি জানিয়েছে এবং তা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ২০ শতাংশ দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশই ডনেৎস্ক প্রদেশ। এই শিল্পাঞ্চলই বরাবর টার্গেট ছিল রাশিয়ার।

জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই ‘আবদার’কে স্পষ্ট ভাবে নাকচ করে জানিয়েছেন যে, সাংবিধানিক পরিবর্তন ছাড়া ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে পারবে না এবং স্লোভিয়ানস্ক এবং ক্রামাটোরস্কের মতো ডনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে রাশিয়াকে ঠেকাতে কৌশলগত প্রতিরক্ষামূলক দুর্গ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে আক্রমণ রোধ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইউক্রেন কেবল রাশিয়ার আক্রমণে শুধু একটি বিরতি নয়, বরং একটি স্থায়ী শান্তি চাইছে।

অন্যদিকে আলাস্কা বৈঠকের শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘রাশিয়া বড় শক্তিধর রাষ্ট্র, তার তুলনায় ইউক্রেন কিছুই নয়। ফলে আপস করতেই হবে। যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদী হয় না। ফলে এই যুদ্ধ শেষ করতে হলে পাকাপাকি শান্তিচুক্তি প্রয়োজন।’