বছর দুয়েক আগে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। প্রায় বছর খানেক হেফাজতে থাকার পর জামিন পেয়েছিলেন। সোমবার ফের একবার গ্রেফতার হলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞাঁ-র তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার আরেক কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি (Enforcement Directorate) জীবনকৃষ্ণ কে গ্রেফতার করলো।

শঙ্কর ঘোষ, মুর্শিদাবাদ:- এসএসসি নবম দশম এর নিয়োগ দূর্নীতি কাণ্ডে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল সিবিআই গ্রেফতার করেছিলো বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। চূড়ান্ত নাটকীয়তা ছিলো সেই গ্রেফতারে। সিবিআইয়ের তল্লাশির সময় নিজের ফোন পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন এই তৃণমূল বিধায়ক। যদিও শেষ রক্ষা হয় নি। নিয়োগ দূর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। প্রায় বছর খানেক সিবিআই হেফাজতে থাকার পর ২০২৪ সালের মে মাসে জামিন পান তিনি। সেই জীবনকৃষ্ণ সাহা কে সোমবার সকালে ওই নিয়োগ দূর্ণীতি কাণ্ডেই গ্রেফতার করলো আরেক কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি। এদিনও গ্রেফতারি এড়াতে নিজের ফোন বাড়ির পাশের ঝোপে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ফোনের রিংটোন ফলো করে সেই ফোন উদ্ধার করেছে ইডি-র আধিকারিকরা। জীবনকৃষ্ণ কে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসছে ইডি। আজকেই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাঁকে তোলা হবে।

সোমবার সাতসকালেই মুর্শিদাবাদের বড়ঞাঁ-র আন্দি এলাকায় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ি পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা ইডি-র আধিকারিকদের একটি বড়সড় দল। স্থানীয় সূত্রে খবর, ইডি-র হানার খবরে বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেন জীবনকৃষ্ণ। নিজের ফোন বাড়ির পাশের একটি ঝোপে ফেলে দেন। কিন্তু ইডি আধিকারিকরা ফোনের রিংটোন ফলো করে সেই ফোন উদ্ধার করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ইডি সূত্রে খবর, নিয়োগ দূর্ণীতি মামলায় জীবনকৃষ্ণের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই এই টাকার লেনদেন হয়েছে বলে খবর। এইসব প্রমাণ হাতে নিয়েই সোম সকালে জীবনকৃষ্ণের বাড়িতে হাজির হন ইডি আধিকারিকরা। শুধু জীবনকৃষ্ণ নয়, এদিন ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালান জীবনকৃষ্ণের আত্মীয়দের বাড়িতেও। সেই আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও এই বেআইনি লেনদেন হয়েছে বলেই ইডি সূত্রে খবর। এদিনই জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসছে ইডি। সোমবারেই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তাঁকে তোলা হবে।